এল কামিনো: আ ব্রেকিং ব্যাড মুভি

যারা ব্রেকিং ব্যাড টিভি সিরিজের ‘মেথ’ এ বুঁদ ছিলেন তাদের জন্য ব্রেকিং ব্যাড সিনেমার সংবাদ নিঃসন্দেহে শিহরণ জাগানোর মতো খবর ছিল। টিভি সিরিজের সফল পরিসমাপ্তির পর সিনেমায় ব্রেকিং ব্যাডকে কিভাবে ফিরিয়ে আনা হবে সেই প্রশ্ন যেমন ভক্তের মনে উঁকি দিয়েছে তেমনি ব্রেকিং ব্যাড এর স্রষ্টা ভিন্স গিলিগান কি সেই আগের টানটান মজবুত গাঁথুনির গল্প উপহার দিতে পারবেন কিনা সেই আশংকাও যে কারও মনে উঁকি দেয়নি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রশ্ন আর আশংকার জবাব মিলেছে কারণ ‘এল কামিনো: আ ব্রেকিং ব্যাড মুভি’ ছোটপর্দায় মুক্তি পেয়েছে গত ১১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে।

শুরুতেই পরিষ্কার করে নেয়া উচিত – এল কামিনো সকলের জন্য নয়। যারা ব্রেকিং ব্যাড সিরিজটি সম্পূর্ণ দেখেননি কিংবা যারা এর ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অজ্ঞ তারা এই সিনেমা কতটুকু উপভোগ করতে পারবেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ। এর কারণ হলো এল কামিনো সিনেমায় ব্রেকিং ব্যাড টিভি সিরিজ থেকে বিভিন্ন রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো সিরিজ দেখা না থাকলে বোঝা সম্ভব হবে না।

ব্রেকিং ব্যাড সিরিজের শেষ পর্বের কথা স্মরণ করুন। ওয়াল্টার ওয়াইটের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল তা সুস্পষ্টভাবে দেখানো হলেও জেসি পিংকম্যানের পরিণতি অস্পষ্ট ছিল। জেসি যে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে – সে দৃশ্য আমরা সিরিজেই পাই। তার পরে কি ঘটেছিল কিংবা জেসি এখন বর্তমানে কোথায় আছে – তার উত্তর দেয়া হয়েছে এল কামিনো: আ ব্রেকিং ব্যাড মুভি-তে। প্রাসঙ্গিকভাবেই, জেসির বন্দীদশার বর্ণনা পাওয়া গিয়েছে, ব্রেকিং ব্যাড সিরিজের প্রধান চরিত্র ওয়াল্টার ওয়াইটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র যেমন স্কিনি পিট, ব্যাজার, মাইক, টড ইত্যাদিকে দেখা দিয়েছে।

সিনেমার গল্পে সব কিছুকে পাল্টে দেয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু নির্মাতা ভিন্স গিলিগান এখানে নিজেকে সামলেছেন। সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে বাস্তবসম্মত করে উপস্থাপনের জন্য। একইভাবে, অসমাপ্ত কোন পরিণতির দিকেও টেনে নেননি। ফলে, এই সিনেমার আরেকটি সিক্যুয়াল হবে এমনটি আশা করা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে একজন ব্রেকিং ব্যাড সিরিজের ভক্ত হিসেবে তেমনটি আমি আশাও করি না।

জেসি পিংকম্যানের জন্য আমাদের ভালোবাসার কমতি ছিল না কখনোই। এল কামিনো-তে যখন ব্রেকিং ব্যাড-এ না দেখানো জেসির দুর্দশা তুলে ধরা হলো, তখন সহানুভূতিতে মন ভরে গেল। অ্যারন পল সেই আগের মতো চমৎকার অভিনয় করেছেন। জেসির কষ্টকে তার ভক্তকূলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য অ্যারন পলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এল কামিনো প্রকৃতপক্ষে ব্রেকিং ব্যাড টিভি সিরিজের ভক্তদের জন্য একটি উপহার, একটি ট্রিবিউট। পালিয়ে যাওয়ার পরে জেসি পিংকম্যানের কী হয়েছিল – এই প্রশ্ন দর্শকের মনে ছিল কিন্তু উত্তর দেয়ার জন্য ব্রেকিং ব্যাড টিভি সিরিজের শেষ পর্ব যথার্থ ছিল না। ব্রেকিং ব্যাড মূলত ওয়াল্টার ওয়াইটকেন্দ্রিক সিনেমা, ফলে সেখানে জেসি পিংকম্যানের পরিণতি দেখানো সঠিক হতো না। বরং একটি বোনাস এপিসোড হলেই এর ভক্তরা তৃপ্ত থাকতো। সিনেমা বাড়তি পাওয়া।

তাছাড়া, গেম অব থ্রোনস এর পরিসমাপ্তির পরে ব্রেকিং ব্যাড-এর ভক্তরা যে আরেকবার তাদের ভালোবাসার সিরিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের সুযোগ পেল, সেটাও বা মন্দ কি!

About দারাশিকো

নাজমুল হাসান দারাশিকো। যোগাযোগ - darashiko@gmail.com

View all posts by দারাশিকো →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *