জঙ্গলে, চা-বাগানে, চিড়িয়াখানায়, সিনেমাহলে

ভারতের একটি রাজ্য সিকিম এক সময় স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। স্বাধীন রাষ্ট্র থাকা অবস্থায় সত্যাজিত রায় সিকিমের উপর একটি ডকুমেন্টারী তৈরী করেছিলেন, উদ্দেশ্য ছিল সিকিমের সৌন্দর্য্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরা, এতে করে সিকিমের পর্যটন শিল্প কিছুটা বিকশিত হবে। কিন্তু নানা জটিলতায় এই ডকুমেন্টারীটি প্রকাশিত হয় নি, একে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয় এবং ১৯৭৫ সালে, সিকিম সরকারে আবেদনের প্রেক্ষিতে, সিকিম ভারতের বাইশতম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ভারতে অন্তর্ভূক্ত হয়।

বাংলাদেশ যদি ভারতের অংশ হয়ে যায় তবে কেমন হবে? লাভ না ক্ষতি?

জ্যাকের সাথে এই নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছিল সিলেট থেকে জাফলং এ যাওয়ার পথে। প্রশ্নটা আমিই করেছিলাম – যখন দূরে ভারতের পাহাড়গুলো দেখা যাচ্ছিল, আর বিশাল বিশাল তিনটি ঝর্ণা। বাংলাদেশ যদি ভারতের অংশ হতো তবে ওই ঝর্ণাগুলো দেখার জন্য ঢাকার ইন্ডিয়ান দূতাবাসের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে ভিসা সংগ্রহ করে, তামাবিল হয়ে আসাম রাজ্যে যেতে হত না। জাফলং থেকে ফেরার পথেই তামাবিল হয়ে আমরা চলে যেতে পারতাম ওই ঝর্ণাগুলোর পাদদেশে। ঠিক এই মুহূর্তে সীমান্তটা তুলে দেয়া সম্ভব কিনা, তুলে দিলে আমাদের লাভ না ক্ষতি, হলে কতটা – সে নিয়ে জ্যাকের মতামতটা জানার আগ্রহ থেকে এই প্রশ্ন। আলোচনা যদিও সিলেটে শুরু হয়েছিল এবং আমরা এখন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, তারপরও চিন্তাটা আমার মাথায় ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে বারবার। দারাশিকো’র বঙ্গভ্রমনে দারাশিকো’র সাথে আপনারা এখন আছেন মৌলভীবাজারে।
পরিকল্পনা ছিল, সকাল ছটায় ঘুম থেকে উঠে তারপর মাধবকুন্ড ঝর্ণা দেখতে চলে যাবো, ফেরার পথে লাউয়াছড়ার জঙ্গলে। ফজরে ঘুম থেকে উঠে দেখেছি সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ছটায় অ্যালার্মে জেগে উঠে দেখলাম ঘুম এখনো ভাঙ্গে নি, আমি আবার ঘুমোলাম। মাঝে আরও দুবার বিরতি দেয়ার পরে বিছানা যখন ছাড়লাম তখন ঘড়িতে নটা, বাইরে ভীষন বৃষ্টি। এক বর্গগজের পাতলা পলিথিন এই বৃষ্টিতে চলবে না। সুতরাং, ভীষন বৃষ্টি থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল। তারপর সবাই মিলে গায়ে নীল পলিথিন জড়িয়ে হোটেলের দিকে এগোলাম। সবার পায়ে স্যান্ডেল, আমার পা খালি। গতকালকের বৃষ্টিতে কাপড়ের জুতা ভিজে চুপসে গেছে, কড়া রোদ ছাড়া এই জুতা শুকাবে না, তাই খালিপায়েই বেরোতে হল। কোন এক দোকান থেকে একজোড়া স্যান্ডেল কেনা যাবে।
বাংলাদেশ নামের একটি দেশ দুম করে ভারতের অংশ হয়ে যাবে – এমনটি ভেবে নেয়া খুব সহজ ব্যাপার না। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে বলে আমাদের প্রতি ভারতের এক ধরনের অধিকার আছে এবং এ কারণেই তাদের অনেক অনায্য আচরণ আমাদের মেনে নেয়া উচিত – এমন চিন্তাভাবনা করতে দেখেছি পরিচিত কিছু মানুষকে। ভারতবিদ্বেষী মনোভাবাপন্ন লোক কম দেখা হয় নি। ভারতকে টুকরো টুকরো করে আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে নতুন এক বাংলাদেশ তৈরীর ব্যাপারে আগ্রহী কিছু মানুষও দেখার সুযোগ হয়েছে – এই তিনপক্ষের কারও পক্ষেই বাংলাদেশ ভারতের অংশ হয়ে যাবে – এমনটি ভাবা সম্ভব নয়। অথচ, কোনভাবে যদি বাংলাদেশ ভারতের সাথে যোগ দেয়, তবে কত কত সুবিধা পাওয়া যাবে এই নিয়ে আমাদের আলোচনা চলল। পৃথিবীর ভবিষ্যত সুপারপাওয়ার রাষ্ট্রগুলোর একটি হওয়া যাবে, পৃথিবীকে প্রভাবিত করছে এমন একটা সংস্কৃতির অংশ হওয়া যাবে, ভারতের দালাল বলে কাউকে গালি দিতে হবে না, টিপাই নদীর মুখে বাধ দিয়ে ভারতের আরেকটা রাজ্যকে ধ্বংস করার কার্যক্রম চালাতে হবে না ভারতকে, বর্ডারে কোন রক্ষী থাকবে না- ফলে পাখি শিকারের মত করে মানুষ মারতে হবে না, সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে দেশের সম্পদের অপচয় হবে না, ভারতীয় পন্যে দেশ সয়লাব হওয়ার কোন আশংকাও থাকবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়?
একশ টাকা দিয়ে একটি সিএনজি ভাড়া করে আমরা পাচজন চলে এলাম লাউয়াছড়ার জঙ্গলে। ছাত্রদের জন্য টিকিটমূল্য অর্ধেক হওয়ায় ৫০ টাকায় পাচজন ঢুকে পড়া গেল। জঙ্গলে প্রবেশের জন্য গাইড নেয়া যেতে পারে, কিন্তু আমরা কাউকে নিলাম না। তাদের মূল্য ব্ড্ড বেশী। জঙ্গলের একদম শুরুতেই গেটেরও বাহিরে একটা ম্যাপ আছে। সেই ম্যাপে বিশালাকৃতির জঙ্গলের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে, আছে রাস্তার পরিচয়। লাউয়াছড়ার জঙ্গলে ঘোরার জন্য আছে তিনটি পথ। এদেরকে ট্রেইল হয়। তিনটি ট্রেইল তিনটি দুরত্বের। প্রথম ট্রেইল আধাঘন্টার রাস্তা অর্থ্যাৎ এই ট্রেইলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘুরে আসতে স্বাভাবিক ভাবে আধাঘন্টা সময় লাগবে। দ্বিতীয় ট্রেইলটি এক ঘন্টা দূরত্বের, তৃতীয় ট্রেইলটি তিন ঘন্টার। প্রতিটি ট্রেইলের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা হবে। যেমন কোন অংশে গেলে পাখিদের কলকাকলী, কোন অংশে পাহাড়ি ছড়া, কোথাও বাশবাগান, কোথাও দেখা যাবে বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণী উল্লুক। আপনি কোন ট্রেইলটা ঘুরে আসবেন সেটা আপনার ইচ্ছা, তবে ম্যাপ দেখে বুঝলাম তিন ঘন্টার ট্রেইলটি লাউয়াছড়া জঙ্গলের সীমানা দিয়ে চলেছে, আধাঘন্টার ট্রেইলটি খুবই ছোট এবং মহিলা/শিশুদের নিয়ে ঘুরে আসার উপযোগী এবং সম্ভবত এক ঘন্টার ট্রেইলটিও যদিও আমাদের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়।

মূল গেটের বাহিরে তিনটি ট্রেইলই চিহ্নিত করা আছে এই ম্যাপে। অবশ্য তিনটি ম্যাপ মাথায় নিয়ে চলা কষ্টকর

এক ঘন্টার ট্রেইলে আমরা যাবো এমন সিদ্ধান্ত আমরা হোটেল থেকে বের হবার সময়ই নিয়েছিলাম। সুতরাং ম্যাপকে মাথায় নিয়ে আমরা ভেতরে ঢুকলাম। বৃষ্টি বলে ভ্রমণপিয়াসীদের সংখ্যা খুবই কম। সব মিলিয়ে জনা পনেরোর বেশী মানুষের সাথে দেখা হল না। মানুষ কম হবার কারণেই বোধহয় এক ঘন্টার ট্রেইলের প্রবেশমুখ আমরা খুজে পেলাম না। ম্যাপের সাথে জঙ্গলের রাস্তার কোনই মিল যখন করতে পারছি না তখন একজন গাইডকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম এক নাম্বার ট্রেইলের অবস্থান। সে ছুটি গল্পের ফটিকের মতই জানিয়ে দিল – ওই হোথা। তারপর আরেকটু যোগ করে দিল – ‘না যাওয়াই ভালো।’ ‘ক্যান ক্যান ক্যান?’ ‘রক্ত দান করতে হবে’। আমরা হাসি মনে মনে – হুহ, ব্যাটা আমাদের জোকের ভয় দেখায়। কদিন আগেই কিনা আমরা বান্দরবান ঘুরে এসেছি, আর এখন জোকের ভয়ে জঙ্গলে ঢুকবো না – হাস্যকর।
জোকের ভয়ে আমরা জঙ্গলো ঢোকা বন্ধ করিনি বটে কিন্তু গাইডের ‘ওই হোথা’ খুজে বের করতে আমরা আরও দুইবার পথ ভুল করে তারপর ট্রেইলে ঢুকে পড়লাম। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, ট্রেইলে ঢুকতে হয় ঘাড় বাকিয়ে, নিচু করে। পায়ে চলা রাস্তাটা দেখে আমরা বুঝতে পারছি এই রাস্তায় আগেও অনেক মানুষ এসে গিয়েছে, কিন্তু চারিদিকের গাছপালা পথটাকে কোথাও কোথাও এমনভাবে ঢেকে রেখেছে যে ঘাড় বাকিয়ে, মাথা নিচু করে, হাত দিয়ে সতর্কতার সাথে ডালপালা-কাটাগাছ সরিয়ে এগোতে হল। ভরা বর্ষায় জঙ্গলের যৌবন এখন উপচে পড়া, ভরভরন্ত। অযত্ন আর অবহেলায় গাছপালা-লতাপাতা তাদের শরীর বাকিয়ে দিয়েছে, উপুর করে দিয়েছে, পায়ে চলা মেঠোপথকে ঢেকে দিয়েছে। পায়ের নিচে অল্প কাদাটে মাটি, কোথাও কোথাও পানি জমে গিয়েছে। সাবধানে বাচিয়ে চলতে হচ্ছে কারণ বেত গাছের কাটা কোথাও কোথাও আমাদের শরীরের পলিথিন টেনে ধরতে চায়, শরীরের উন্মুক্ত অংশে খোচা দেয়। বৃষ্টির কারণে জঙ্গলের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপেক্ষিত, কোন পাখি ডাকছে না, বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণী উল্লুকের দেখাও পাওয়া যায় না, তারপরও এই দুর্গম জঙ্গলে প্রবেশ এক বিন্দুও হতাশার জন্ম দিচ্ছে না।
একটু পরেই আমরা খোলা জায়গায় বেরিয়ে এলাম। সামনে একটা ছড়া। বেশ চওড়া। তার উপর কাঠের তৈরী একটি সেতু। নিচে সাদা বালির মাঝ দিয়ে ঝির ঝির করে পানি বয়ে যাচ্ছে। সেতুর উপরে নীল পলিথিনে ঢাকা চার বালকের ছবি তুললাম। মনে হল, নিচে গিয়ে সেতুতে দাড়ানো অবস্থায় চার বালকের ছবি নিলে ভালো হবে। নেমে পড়লাম। ছবিও তুললাম। তারপর টের পেলাম আমার বাম পা বালিতে স্থির থাকলেও ডান পা ডেবে যাচ্ছে। অথচ, দুজায়গার বালিতে কোনই পার্থক্য নেই। চোরাবালি! ডান পা’টা তুলে আরেক জায়গায় রাখলাম, শক্ত ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে। বাম পা’টা তুলে এক ধাপ এগিয়ে রাখতেই ডেবে গেল। পানি নেই, অথচ পা বালিতে ডেবে যাচ্ছে – এ বিষয়টা আমার কাছে বেশ বিস্ময়কর। আমি বালকদের বলে যাচ্ছি – এই পা’টা চোরাবালিতে আছে, এই পা’টা নাই – কিন্তু বুঝতে পারছি আমার কন্ঠের উদ্বেগটা তাদের স্পর্শ করছে না। এক পা চোরাবালিতে দিয়ে দাড়িয়ে আছি – এই বিষয়টা যতটা না টেনশনের তারচে বেশী রোমাঞ্চকর। আর বাহাদুরির সাহস হল না, উঠে আসলাম। কক্সবাজারে চোরাবালিতে কিভাবে মানুষ ডুবে যায় তার অভিজ্ঞতা অর্জন হয়ে গেল। হয়তো চোরাবালিটা খুব বেশী গভীর ছিল না, কিন্তু চোরাবালির কার্যপদ্ধতিটা জানা হয়ে গেল।
জঙ্গলের ভেতর ছড়া

কাঠের তৈরী সেতুর উপর চার বালক। আমি দাড়িয়ে আছি চোরাবালিতে এক পা রেখে !

উপর থেকে চোরাবালির ছবি

বাংলাদেশ যদি ভারতে অংশ হয়ে যায় তবে কি হবে সেই্ কথাটা শেষ করি, তারপর ভ্রমণ বর্ণনা। অনেক অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে হয়তো, কিন্তু সমস্যাও হবে। বর্তমান জেনারেশনকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তাদেরকে বাচতে হবে ভারতীয়দের করুনার পাত্র হয়ে। অধিকারটুকু আদায় করতে হবে এক প্রকার লড়াই করে। দেশভাগের পরে এপাড়ের হিন্দুরা ওপাড়ে গিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছিল সেরকম। এই কষ্টকর জীবন চলবে বড়জোর পঞ্চাশ বছর। এই পঞ্চাশ বছর শেষে সম্পূর্ন নতুন একটা জেনারেশন আসবে ভারতে, তাদের জন্ম হবে ভারতে। একটা স্বাধীন দেশ থেকে এসে তাদের পূর্ববর্তী জেনারেশন অনেক বঞ্চনা সয়ে তাদের জন্য পরিবেশ তৈরী করে গিয়েছে – এই বিষয়টা তাদের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে কিনা জানি না, তবে তারা তখন যে কোন ভারতীয়র মত সমান সুবিধা সুযোগ আদায় করে নিতে পারবে এমনটি নিশ্চিত। জ্যাক এই বিষয়ে সন্দেহ পোষন করে, সে মনে করে এমনটি হবে না। দ্বিতীয় জেনারেশনও শান্তি পাবে না। আমি বলি পাবে। উদাহরণ? আমেরিকা-কানাডা-ব্রিটেনের দিকে তাকালেই পাওয়া যাবে। ওখানে দ্বিতীয় জেনারেশন যতটা না বাংলাদেশী তারচে বেশী আমেরিকান, কানাডিয়ান, ব্রিটিশ। সুতরাং, ভারতীয় হতেও খুব একটা কষ্ট হবে না। এই যুক্তিতে জ্যাক সম্মত হয় না কিন্তু খুব প্রতিবাদও করে না – এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে হলে তাকে আরও ভাবতে হবে।
লাউয়াছড়া বন নিয়ে আসুন একটু পড়াশোনা করে নিই। উইকিপিডিয়া থেকে তুলে দিলাম।
বাংলাদেশের বিখ্যাত বনগুলোর মধ্যে লাউয়াছড়ার বন অন্যতম। পরিচিতির দিক থেকে সুন্দরবনের পরেই লাউয়াছড়ার বনের অবস্থান। সিলেট বিভাগে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় এ বন অবস্থিত। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার এখানে বৃক্ষায়ন করলে তা-ই বেড়ে আজকের এই বনে পরিণত হয়। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার মৌলভীবাজার ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন ২,৭৪০ হেক্টর আয়তনের পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন ছিলো এলাকাটি, সেই সুবাদে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পূর্ববতী নাম পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন। বনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতি ভ্রমণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পশ্চিম ভানুগাছ বনের ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে ‘জাতীয় উদ্যান’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
চিরহরিৎ এ বনে নিরক্ষীয় অঞ্চলের বর্ষাবন বা রেইনফরেষ্টের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। একসময় বৃহত্তর সিলেটের সর্বত্রই এ ধরণের বন ছিলো। তবে বানিজ্যিক চা বাগান সৃষ্টি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমে সংকুচিত হতে হতে মাত্র কয়েকটি স্থানে চিরহরিৎ এ বর্ষাবনের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে।
কাঠের তৈরী সেতু পেরিয়ে আমরা আরও গভীরে ঢুকে পড়লাম। গভীর মানে লেখালিখির গভীর নয়, সত্যিকারের গভীর। এক জায়গায় গিয়ে আমাদের আক্ষরিক অর্থেই বসে বসে এগোতে হল। গাছের ডালপালা আর বেতগাছের কাটা এমনভাবে রাস্তা ঢেকে রেখেছে যে বসে এগোলেও মাথায় ডাল লেগে যায়। পায়ে দুটো জোক ধরেছে, দুবারে ছাড়িয়েছি। জ্যাকের পায়ে ধরেছিল একটা, তাকে দেখিয়ে দিয়েছি। জোক কোন সমস্যা না। সমস্যা হল আমরা পথটা চিনতে পারছি না। পায়ে চলা পথ যেদিকে গেছে আমরাও সেদিকে গেছি। হাতের কাছে ম্যাপটা নেই, ম্যাপের মধ্যে শুধূ ট্রেইলের রাস্তাটাই দেয়া আছে, অন্য কিছু দেয়া নেই। সুতরাং ট্রেইল যদি কোন দিকে বাক নেয় তবে আমরা সেটা বুঝতে পারবো না। এবং ঠিক এই ঘটনাটাই ঘটল। এক জায়গায় এসে ট্রেইল দুভাগ হয়ে দুদিকে গেছে দেখে আমাদের দাড়াতে হল। ডানপন্থীরাই ভালো, সুতরাং ডানের রাস্তা বেছে নিলাম। বহুদূর যাবার পরে হঠাৎ-ই রাস্তা গায়েব হয়ে গেল। সত্যি সত্যিই গায়েব, কোনই চিহ্ন নেই। আবার পিছু ফিরতে হল। এবার বামপন্থী। কিন্তু এই রাস্তা একটু গিয়েই শেষ। এখন উপায়? মধ্যমপন্থী হবার চেষ্টা করলাম, কোন রাস্তাই পাওয়া গেল না। আমাদের বর্তমান অবস্থাকে আঞ্চলিক ভাষায় ‘ব্যাক্কেল’ অবস্থা বলে। এতদূর এসে এখন আর এগোতে পারছি না, অথচ জানি সামনে কোথাও এই রাস্তাটা পিচঢালা হাইওয়ের সাথে মিশবে। কিন্তু কোথায় সেই রাস্তা? ঝোপঝাড় ঠেলে এগোব, সেটাও সম্ভব নয়, কারণ হাতে কোন কিছুই নেই। ডানদিকে যাবো না বামদিকে সেটাও জানি না। বালকদের একজনের কাছে স্যামসাঙের গ্যালাক্সিট্যাব টাইপের কি জানি এক মোবাইল। সেখানে জিপিএস দিয়ে গুগল ম্যাপে অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। বিশাল সুবিধা এর। ডানে বামে কি আছে তা ম্যাপেই দেখে ফেলা সম্ভব। অথচ এই জঙ্গলে সেই ম্যাপ কাজ করছে না। নেটওয়ার্ক নেই।

১৯৫৬ সালের অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ সিনেমার শ্যুটিং হয়েছিল এই রেল লাইনে। দেখে নিন।


শেষ পর্যন্ত আধাঘন্টার ট্রেইলেই ঘুরে আসতে হল


আফ্রিকান টিকওক গাছ

অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার, কিন্তু অস্বীকার করাও ঠিক হবে না, আমরা এক ঘন্টার ট্রেইল শেষ না করেই পিছু ফিরে এলাম। তারপর রেললাইনের ধারে গিয়ে ছবি তুললাম। তারপর আধাঘন্টার ট্রেইলে ঢুকে ঘুরে বের হয়ে এলাম। ব্যর্থতার কারণে মন বেশ হতাশ। কিন্তু আমি মনে মনে প্রতীজ্ঞা করে ফেলেছি – নেক্সট যদি আবার লাউয়াছড়ায় আসতেই হয় তবে অবশ্যই বর্ষাকালে আসবো এবং অবশ্যই এক ঘন্টার ট্রেইলে আবারও ঢুকবো। জঙ্গলের এই উদ্ধত যৌবন আমার বেশ ভালো লেগে গেছে।
২.
ট্রাকে ভ্রমনের অভিজ্ঞতার সাথে অন্য কোন বাহনের অভিজ্ঞতা তুলনীয় নয়।
পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে আসার পর হুট হাট করে চট্টগ্রাম চলে যেতাম। ঢাকায় মন টিকছে না কিংবা হঠাৎ মনে হল, ‘যাই চিটাগাং’, ব্যস সায়েদাবাদ গিয়ে গাড়িতে উঠে পরলাম। একদিন বিকেলের দিকে এমনটি মনে হওয়ায় আমি আর নেজাম চলে গেলাম সায়েদাবাদ এবং দেখলাম নাইটকোচ ছাড়া এই মুহূর্তে চট্টগ্রামগামী কোন বাস নেই। রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন মানে হয় না, ফেনীর মহিপালগামী একটা লোকাল বাসে উঠে পড়লাম। মহীপালে যখন নামলাম তখন বাজে রাত দশটা এবং সরাসরি চট্টগ্রাম যাবে এমন কোন বাস নেই। লোকাল বাসের জন্য অপেক্ষা করছি এমন সময় একটি ট্রাক ‘চট্টগ্রাম-চট্টগ্রাম’ বলে হাক দিচ্ছে দেখে উঠে পড়লাম। সে এক অবিস্মরনীয় অভিজ্ঞতা। মজবুত গাড়ি, কোন ভয়ডর লাগে না ভেতরে বসলে। সবচে ইন্টারেস্টিং হল ড্রাইভারের সিট। মনে হচ্ছে সেটি একটি স্প্রিং এর উপর তৈরী। ড্রাইভার একবার সামনে একবার পেছনে, একবার ডানে একবার বামে – এভাবে দুলছে। আমরাও দুলছিলাম, কিন্তু ড্রাইভারের মত নয়। সাড়ে বারোটায় জিইসি’র মোড়ে নামিয়ে দিয়েছিল সেই ট্রাক।
লাউয়াছড়ার জঙ্গল থেকে ফেরার সময় আমাদের এই একই সমস্যায় পড়তে হল। গাড়ি নেই। বৃষ্টি, দুএকটা সিএনজি অটো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো রিজার্ভ। দুএকটা গাড়িও দেখা যাচ্ছে, সেগুলোও। দাড়িয়ে আছি, মাধবকুন্ড যাবার পরিকল্পনা বাতিল করা ছাড়া উপায় নেই, কারণ শ্রীমঙ্গল থেকে ওদিকে কোন বাস বা অন্য গাড়ি যেতে দেখছি না। অপেক্ষা করছি। হঠাৎই একটা সাদা পিকআপ দেখা গেল। শ্রীমঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। ‘নিয়ে যাবেন?’ ‘কয়জন?’ ‘পাচ’ – ড্রাই্ভার মাথা কাত করে হ্যা জানিয়ে দরজা খুলতে চাইল, কিন্তু আমরা পাচজনই পেছনে চড়ে বসলাম। জঙ্গলের মাঝ দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে যাচ্ছে গাড়ি, বৃষ্টি হচ্ছে ঝিরঝির, আমাদের গায়ের নীল পলিথিন উড়ে ছুটে পালিয়ে যেতে চাচ্ছে, বৃষ্টির ছাট প্রচন্ড গতিতে আমাদের মুখে আঘাত করছে বলে আমরা চোখ বন্ধ করে আছি কিন্তু দাতগুলো বের করে হাসতে হাসতে একহাতে গাড়ির বডি অন্য হাতে পলিথিন আকড়ে ধরে ছুটে চললাম শ্রীমঙ্গলের দিকে। বালকরা মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তুলতে লাগল – এই অভিজ্ঞতা মোবাইলে যদি বন্দি নাই করা যায় তবে এত দামী মোবাইল কেন?


বালকের তোলা ছবি

দুই কিলো আগে থাকতেই আমরা নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে। চা বাগান। বাংলাদেশ চা গবেষনা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই)। যে সময়ে চা বাগানে এসেছি সেটা সঠিক সময় নয়। বাগানে কোন কুলি নেই, কামিন নেই। এখন চা পাতা গজাচ্ছে, পাতা তোলা হবে আরও কয়েকমাস পর থেকে। তাই বাগান একদম ফাকা। আমরা একদম ভেতরে চলে এলাম। বিটিআরআই এর অফিসের গেটে কয়েকজন ভদ্রলোক দাড়িয়ে ছিলেন। একজন এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘পাতা লাগবে? এক নাম্বারটা দেবো।’ এই ধরনের আহবানে আমি সবসময়ই নির্লিপ্ত। একা থাকি, এই চা পাতা নিয়ে কাউকে দেবো সে সুযোগও নেই। বালকরা তাদের পরিবারের সাথে থাকে, চিন্তা ভাবনা করছে কিনবে কি কিনবে না – এমন সময়ই দেয়ালের গায়ে সাইনবোর্ডটা চোখে পড়ল – ‘এখানে চা পাতা বিক্রয় করা হয় না। চা পাতা কিনে প্রতারিত হবেন না’ (একটু এদিক সেদিক হতে পারে, ছবি নেই)। এই কথার পর আর দাড়ানো চলে না। আমরা আরও ভেতরে গেলাম।


তৈরী হচ্ছে সেতু। শীতকালে এর উপর দিয়ে গাড়ি যাবে, বর্ষাকালে নিচ দিয়ে যাবে খরস্রোতা কাদামাখা ঘোলাটে পানির ঢল

চা বাগানের ছবি না দেয়াটা ঠিক হবে কি?

চা বাগানের রাস্তায়

চা বাগানের এক দিকে থাকে বাংলোগুলো, সেখানে কর্মকর্তারা থাকেন তাদের পরিবার নিয়ে। এই বাংলোগুলোর ডিজাইন প্রায় সব জায়গায়ই একরকম। সম্ভবত বৃটিশ আমলে এইভাবে বাংলোগুলো তৈরী করা হত। এই চা বাগান আর বাংলোগুলো দেখলে মনে হয় অনেক চেনা। কারণ কি? সমরেশ মজুমদারের বই ‘উত্তরাধিকার’। অনিমেষ/অনি ডুয়ার্সে এই ধরনের চা বাগানে বড় হয়েছিল, তার হিরো ছিল দাদু। কুলি কামিনদের বস্তি আর চা বাগানের বাবুদের বাংলো – ডুয়ার্স আর শ্রীমঙ্গলে বোধহয় কোন পার্থক্য নেই। কল্পনায় আকা ছবির সাথে এই ছবির বড্ড বেশী মিল। বাংলাদেশী কোন্ লেখক চা বাগান নিয়ে এত বিস্তারিত লিখেছেন?
জনপ্রতি দুই টাকা দিয়ে বাসে করে ফিরলাম শ্রীমঙ্গলে।
শ্রীমঙ্গলে হোটেলে খেতে বসে দেখা গেল গরু পাওয়া যায় না। দু:খজনক, খুবই দু:খজনক। কেন? এখানে নাকি প্রায় সিক্সটি পার্সেন্ট হিন্দু। তাই গরু তেমন চলে না। গরু পেতে হলে একটু নিম্নমানের হোটেলে যেতে হবে। বিশেষ করে সাতকড়া দিয়ে রান্না করা গরু সেইসব হোটেলের জনপ্রিয় খাবার। আমাদের খাওয়া হল না সেই সুস্বাদু (শোনা কথা) গরুর মাংস।

শ্রীমঙ্গলের বেশ পরিচিত চিড়িয়াখানার নাম হল শীতেষ বাবুর মিনি জু। তার পুরো নাম শীতেষ রঞ্জন দে। ভদ্রলোক সম্ভবত শিকারী ছিলেন। ভালুকের থাবায় তার এক চোখ নেই। চিড়িয়াখানায় ঢোকার অনুমতি ছিল না, বৃষ্টিতে কাদা হয়ে আছে। অনুরোধে খুলে দেয়া হল। নানা প্রজাতির প্রানী, প্রায় সবই ঢাকা চিড়িয়াখানায় পাওয়া যায়। যা পাওয়া যাবে না সেরকম একটা হল সোনালী বাঘ (ছবি তুলি নাই)। আরেকটার নাম ভুলে গেছি। ঢাকা চিড়িয়াখানার থেকে এখানে জানোয়ার দর্শনের অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন। ঢাকায় চিড়িয়াখানার খাচার বাইরে একটা বাউন্ডারি থাকে নিরাপত্তার জন্য। এখানে সেটা নেই। ফলে মনে হয় না খাচায় দেখছি। বেশ উৎফুল্ল ভঙ্গিতে ভাল্লুকটা ঘুরে বেড়াচ্ছিল বলে তার ছবি তুলতে গেলাম। হাত খাচার বাইরেই ছিল, কিন্তু ভাল্লুকটা থাবা বাড়িয়ে দিল হঠাৎ। ধক্ করে উঠেছিল কলিজা! ছবিটাও নড়ে গেল।


হাত কেপে যাওয়ায় ছবি ঝাপসা হয়ে গেল

সিলেট বলেন আর শ্রীমঙ্গল – দুই থেকে সাত রং চায়ের কথা শুনতে শুনতে মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। কুমিল্লার সব মাতৃভান্ডারই যেমন অরিজিনাল, এখানেরও সব চা’ই অরিজিনাল। তবে শ্রীমঙ্গলে নীলকন্ঠ (ঠিক আছে তো??) বলে একটা দোকান আছে, যেটায় প্রথম এই চা বানানো হয়েছিল, সেটা রিকশাওয়ালারা বেশ ভালো চিনে। বিকেলে গেলাম সেখানে। নানান রং এর চা পাওয়া যাচ্ছে। এক রঙ এর চা আছে তিন ধরনের তার একটা আবার পানির রং এর। আমি দুধের মালাই চা’য়ের অর্ডার দিলাম। বাকীরা এক এক রকমের চা। এবং সবাই মিলে একটা সাত রং এর চা। রং হিসেবে দাম। প্রতি রং দশ টাকা। প্রায় বিশ মিনিট অপেক্ষা করার পর চা এসে গেল। খাবো কি – ছবি তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম সবাই।


সাত রং এর চা

আমার ছুটি ফুরোলো। বালকরা থাকবে আরও একদিন, মাধবকুন্ড যাবে, পরীকুন্ড যাবে। আমার বস ছুটি দিল না। গোলামের আবার ভ্রমণ! রাত সাড়ে বারোটার টিকিট কেটে ফেললাম। তারপর সবাই মিলে হাটতে হাটতে রাধানাথ সিনেমাহলে। সেখানে চলছে ‘ জীবনে তুমি মরনে তুমি ‘। বালকরা কখনো সিনেমাহলে এফডিসি-র বাংলা সিনেমা দেখে নি। ঢাকায় বসে দেখবে সে সাহসও নেই। সুতরাং শ্রীমঙ্গল অনেক ভালো জায়গা। আমরা রাত নয়টার শো’র দর্শক হয়ে গেলাম।
শ্রীমঙ্গল ভ্রমন শুরু করেছিলাম ভারতের সাথে বাংলাদেশ একত্রিত হয়ে গেলে কি হবে সেই কথা নিয়ে। এরকম চিন্তা সুস্থ্য মানুষের লক্ষণ নয়, হতাশাগ্রস্থ মানুষ এরকম চিন্তা করতে পারে। আমি হতাশাগ্রস্থ নই, আলোচনার স্বার্থে সকল যুক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। ভারতের সাথে মিশে যাওয়ার চিন্তা আমাদের করতে হয় না, যদি আমরা আমাদের রিসোর্সগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারতাম। রিসোর্স বলতে শুধু মাটিতে-পানিতে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক জিনিসগুলোই শুধু নয়, এই চৌদ্দ কোটি মানুষের মাথায় যে রিসোর্স তার ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না কোনভাবেই। নিজেদেরকে উন্নত না করেই আমরা উন্নত দেশগুলোর আচরনকে লালন করা শুরু করেছি। ঘটনাপ্রবাহ স্বাভাবিক-ই। সরকারের কিছু ভূমিকাকেও অস্বীকার করা যাবে না, কিন্তু এই আমরা যদি পাল্টে ফেলতে পারি, তবে সরকার করবে কি? চাই না ভারতের অংশ হতে, আমার বাংলাদেশ নিয়েই আমি থাকবো, তবে তার আগে বাংলাদেশকে থাকার মত একটি দেশ হিসেবেও তৈরী করে নেব।

চা কেমন হয়েছিল সেটা বর্ণনা না করে এই পোস্ট শেষ করা ঠিক হবে না।
আমি: (মালাই চা) পুরানা পল্টনে ওভারব্রিজের নিচের চা এর থেকে একশগুন ভালো।
বালকেরা (সাত রং এর চা) : প্রথম কালারটা নোংরা পানি, দ্বিতীয় কালারটা ড্রেনের পানি … (আমি আর শুনতে চাই নি)

বাস চলতে শুরু করলো। গুড বাই শ্রীমঙ্গল, গুড বাই মৌলভীবাজার। মাধবকুন্ড, পরীকুন্ড দেখার জন্য হলেও আরেকবার আসবো। সেবারও একাকী আসবো না ইনশাল্লাহ।

About দারাশিকো

নাজমুল হাসান দারাশিকো। প্রতিষ্ঠাতা ও কোঅর্ডিনেটর, বাংলা মুভি ডেটাবেজ (বিএমডিবি)। যোগাযোগ - [email protected]

View all posts by দারাশিকো →

One Comment on “জঙ্গলে, চা-বাগানে, চিড়িয়াখানায়, সিনেমাহলে”

  1. অসাধারন…।।<br /><br />অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারনে আমি সিরিজটা ফলো করতে পারিনি…<br />আজকে থেকে শুরু করলাম, বংগ ভ্রমনে দারাশিকোর সাথে আছি আমিও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *