টেনিসের জন্য রেশমের রাজশাহীতে

১১ই ফেব্রুয়ারী, ২০০৯

সকাল দশটায় হাজির হওয়ার কথা ছিল। সময় নিয়ে আমি অনেক সচেতন, সুতরাং দশটার একটু আগেই পৌছে গেলাম। আসলাম শিকদার ভাই আসলেন তখনই। গত রাতেই তাকে নিশ্চিত করেছিলাম যে আমি যাচ্ছি, এর আগে রহমান ভাইকে জানিয়েছি যে আমি কক্সবাজার যাচ্ছি না। পাপ্পুর দেয়া ব্যাগটাতে দুটো কাপড় আর দুটো বই নিয়ে হাজির হলাম।

রাজশাহী যাচ্ছি আসলাম শিকদার ভাইয়ের নেতৃত্বে। তিনি একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের প্রডিউসার। নিয়মিতভাবে গোটা কয়েক প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন, তার মধ্যে একটি লাইভ শো, প্রতিদিন সকালে প্রচারিত হয়। অন্যান্য প্রোগ্রামের মধ্যে পাক্ষিক এবং মাসিক প্রোগ্রাম রয়েছে। খেলাধূলার প্রোগ্রামই বেশি, রাজশাহী যাবো আন্তর্জাতিক টেনিস টুর্নামেন্ট কাভার করতে। একই সময়ে কক্সবাজার ট্যুরের প্রস্তাব ছিল, সেটাও বিনাখরচায়। কিন্তু রাজশাহী আগে কখনও যাওয়া হয়নি, তাই কক্সবাজারের পরিবর্তে রাজশাহীকেই বেছে নিয়েছি।

যে কোন অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য কিছু প্রস্তুতি রয়েছে। আসলাম শিকদার ভাই নিজেই সে সব করলেন, আমাকে দেখিয়ে দিলেন কি করতে হবে। গাড়িতে গিয়ে উঠতে বসলেন। গেলাম। মোট ছয়জনের টিম। আমাদের প্রোগ্রামের হোস্ট ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার ডাঃ অনুপম হোসেন, আসলাম শিকদার ভাই, ক্যামেরাম্যান আমিন ভাই, ক্যামেরাম্যান সহকারী লিজবন কোরিয়া, ড্রাইভার দুলাল ভাই। এগারোটার দিকে যাত্রা শুরু করলাম। আমি শেষ সিটে।

“আসলাম শিকদার ভাই বললেন, ‌’আমিন ভাই আপনি কবি মানুষ, আপনি সামনে বসেন।” – এই কথা দিয়ে আমিন ভাই তার ডাইরি শুরু করেছেন। তার সাথে ডাক্তারের ছোট একটা প্যাড আর কালম থাকে, সময় পেলেই তিনি কিছু লিখেন, কি লিখেন সেটা বুঝতে অবশ্য আমাকে রাত্র পর্যন্ত সময় লাগল।

সাভার গিয়ে আসলাম শিকদার ভাই আর ডাঃ অনুপম হোসেন নাস্তা খেতে নামলেন। আমরা ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়েছি, তাই গাড়িতেই রইলাম।

সাড়ে তিনটায় রাজশাহী পৌছলাম, ইতিমধ্যে ডাঃ অনুপম হোসেনের সাথে পরিচয় হয়ে গেছে, কথা হয়েছে, ভালো লেগেছে। আমরা চলে গেলাম সরাসরি ইমাম টেনিস কমপ্লেক্স-এ। এবং সরাসরি খাবার তাঁবুতে। নাম চিলি’স রেস্টুরেন্ট। চায়নিজ খাবার। এই খাবার খাওয়ার সময় লোকজন কত আগ্রহে থাকে, মজার ব্যাপার হল আমি নিশ্চিত আমরা ছয় জন আগামী ছ’মাস অন্তত: নিজের আগ্রহে চায়নিজ খেতে যাবো না। কারন তিনদিনে মোট সাত বেলা চায়নিজ থাই খাবার খেতে খেতে আমরা সবাই বিরক্ত হয়ে উঠেছিলাম । আমিন ভাই তো শেষ দিন বলেই ফেললেন যে তিনি বাইরে গিযে ভাত খাবেন।

তখনো প্লেগ্রাউন্ডে ঢুকিনি, কিন্তু এর মাঝই হাফপ্যান্ট পরা ফর্সা রমনীদের দেখার সৌভাগ্য (!) হয়ে গেল। এরা সবাই টিনেজ। কিন্তু স্বাস্থ্য দেখে কে বলবে যে এর বয়স পঁচিশের কম না। মজার ব্যাপার হল আমি বুঝতে পারছি, এদের বয়স মোটেও পনেরোর বেশী না, কিন্তু আমাদের চোখে তো তারা বেমানান।

খাওয়া শেষ করে আমরা ভিআইপি গ্যলারিতে গেলাম, টিম সহ। এই প্রথম আমি কোন টেনিস কোর্টে ঢুকলাম। নাহ, ঠিক হল না, ছোটবেলায় স্কুলে যাবার সময় আগ্রাবাদ টেনিস কোর্ট পড়তো, ফেরার সময় দুএকবার উঁকি দিয়ে দেখেছিলাম। মনে পড়ে গেল টেনিস খেলা শেখার জন্য (অন্য একটি গুপ্ত উদ্ধেশ্য সহ) প্রতিদিন দুপুর বেলায় বিটিভিতে টেনিস খেলা দেখতাম, কিন্তু শিখতে পারিনি। এবারও পারলাম না, তবে বুঝতে পারলাম অনেক কিছুই। প্রথম দিন খেলোয়ার মেয়েগুলোকে দেখা ছাড়া আমার আর কিছুই শিখা হল না।

বাংলাদেশ সহ মোট উনিশটি দেশ অংশগ্রহন করেছে এই টুনার্মেন্টে। বাংলাদেশ যথারীতি অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। ইন্ডিয়ার কিছু আছে, শ্রীলংকার কেউ আছে, ইংল্যান্ডের দুজন আছে, তারা দুভাই! শ্রীলংকার যে মেয়েটি খেলছে সে সবচে’ উগ্র পোশাকী। ভয়ানক কালো, কিন্তু ধবধবে সাদা দাতঁ। আর বেশ ভালো ইংরেজী জানে, আমেরিকান একসেন্টে! তবে চোখে লেগে থাকল, ইন্ডিয়ার এক মেয়েকে, সে হালকা চালে দৌড়াচ্ছিল, কানে আইপড, মাথায় লম্বা বিনুনি। দৌড়ের সাথে সাথে তা যে কি সুন্দর ভাবে দুলছিল! আমি মুগ্ধ!

সন্ধ্যার আগে আগে খেলা শেষ হল, আমরা হোটেলে ফিরলাম। হোটেলের নাম হোটেল গ্যালাক্সি ইন্টারন্যাশনাল। লক্ষীপুর মোড়ে অবস্থিত। আমি আর আমিন ভাই এক রুমে, লিজবন আর দুলাল পাশের রুমে, উপরে সিঙ্গেল রুমে আসলাম শিকদার ভাই, আর ডাঃ অনুপম ভাই। হোটেলটা নাকি শহরের ভালো হোটেলগুলোর মধ্যে একটি। তবে অবস্থা ভালো না। টয়লেটের দরজা লাগে না, মশারী একটা মাত্র। তবে টিভি আছে, তাতে ৬৫ টা চ্যানেল দেখা যায়।

ঘন্টাখানেক বিশ্রাম নিয়ে সবাই আবার বের হলাম। ডাঃ অনুপম প্রতিদিনের রুটিন বজায় রাখতে পাঁচ কি.মি. হাটবেন, পদ্মার পাড়ে, সন্ধ্যায়। গেলাম। আমি আর আসলাম শিকদার ভাই এক গ্রুপে আর ডাঃ অনুপম ভাই এবং আলমগীর সাহেব একসাথে রওয়ানা হলাম। বাকীরা গেল না, তারা ডেস্টিনেশন পয়েন্টে গিয়ে অপেক্ষা করবে। আসলাম শিকদার ভাইয়ের সাথে অনেক কথা হলো।

রাতে….

টিভি রিমোট ঘুরাচ্ছি বন বন করে… আমিন ভাই ফিরলেন। সাথে এক বোতল আরসি, দুটো চিপস! বুঝলাম রাতের খাওয়া ভালো হয় নাই, তাই খাবেন। কিন্তু কিছুক্ষন পরে সব ক্লিয়ার হল, তিনি বললেন, ‘ভাই, আমি একটু সিস্টেম করবো, আপনি কিন্তু আসলাম শিকদার ভাইকে কিছু বলবেন না” তিনি একটা বোতল বের করলেন। আমি চমৎকৃত  হলাম। বোতলটা নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখলাম, কেরু এন্ড কোং এর হুইস্কি। দাম ৪০০ টাকা, ১৮০ মি.লি.।

আমিন ভাই খুব আয়েশ করে টেবিল নিয়ে বসলেন, টেবিলে তিনটা জিনিস সাজিয়ে রাখলেন, তারপর, বোতল খুললেন। বোতল থেকে সামান্য হলদে তরল (প্রস্রাবের মত, তবে ঝাঁঝ আছে) ঢাললেন, তাতে ড্রিংকস মেশালেন, তারপর একচুমুক খেলেন সাহস করে, ‘সবসময় খাই না, শুধু বাইরে আসলে খাই’ – কৈফিয়ত দিলেন যেনো।

তারপর চিপস মুখে দিলেন কয়েকটা। আমি দেখতে লাগলাম … …

১২ই ফেব্রুয়ারী, ২০০৯

রাতটা মোটেও ভালো কাটে নি, গত রাতে বদান্যতা করে মশারীটা দিয়েছিলাম আমিন ভাইকে, কিন্তু রাত দুটোর দিকে মশার কামড়ে ঘুম ভেঙ্গে গেল, গরমও লাগছে, অথচ উপায় নেই, আমিন ভাই মশারীর নিচে খালি গায়ে ঘুমুচ্ছে, ফ্যান চালালে তার সমস্যা। সুতরাং কোনভাবে রাতটা কাটানো হল।

সকালে আমরা গেলাম আলমগীর সুইমিং ক্লাবে। ভদ্রলোক কম বয়সী মানুষ, একটা বউ আছে, বোধহয় পোলাপান নাই। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান, ছেলেমেয়েদেরকে সাঁতার ট্রেনিং দেন। তাদেরকে তিনি জোগাড় করে রেখেছেন আমরা যাবার আগেই। দেখলাম, অনেকগুলো ছেলে, কয়েকজন মেয়ে। তাদের মধ্যে একজন মাত্র এসএসসি পরিক্ষার্থী। বাকীরা এর নিচে। দেখলাম ডাঃ অনুপম ভাই আর আসলাম শিকদার ভাইকে দুজন মেয়ে  আগে থেকেই চিনে, কারণ তারা এক সপ্তাহ আগেই সেন্ট মার্টিন্স থেকে টেকনাফে সাঁতরিয়ে গিয়েছে – দুরত্ব পনেরো কি.মি.।

এদরে মধ্যে সোনিয়া নামের মেয়েটি সুন্দর, আকর্ষনীয় তার হাসি। দেখতে ভালো লাগল, কিন্তু পছন্দ করতে পারলাম না। এর একটা কারণও আমি দাড় করিয়েছি – মেয়েটা জানে সে অন্যদের তুলনায় সুন্দরী, এবং সে জানে সে অন্য যে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করার যোগ্যতার অধিকারী। এই ব্যাপারটাই ভালো লাগল না। তাই …

দুপুরে একঘন্টা ছুটি পাওয়া গেল, বাকীরা বিশ্রামে গেলেন, আমি ঘুরতে। অথচ সময় মাত্র এক ঘন্টা, ইতোমধ্যে আমরা হোটেল ছেড়ে পর্যটনের মোটেলে এসে উঠেছি। বিশাল রুম, দুটো বেড, রুমেই ফুটবল মাঠ (দুজনের খেলার জন্য), অ্যাটাচড বাথ, গরম-ঠান্ডা দুধরনের পানির ব্যবস্থাই আছে, সামনে বড় বারান্দা। টিভি ইত্যাদি! বিছানাটা যে কি নরম.. উমমমমম! শরীর ডেবে যায়, রাতে কি আনন্দে ঘুমুবো এই কথা ভেবে তখনই উত্তেজনা বোধ করতে লাগলাম। উমমম….

মোটেলের উল্টা দিকে রাজশাহী চিড়িয়াখানা। লিজবন আর দুলাল ভাইকে নিয়ে ঘুরতে গেলাম। গতানুগতি সকল প্রাণী। বাঘ নেই, তবে গাধা আছে, যা ঢাকা চিড়িয়াখানায়  নাই। এক ঘন্টার আগেই বেড়ানো শেষ হয়ে গেল। আবার টেনিস কোর্টে গেলাম।

আসলাম শিকদার ভাই অবিবাহিত, বয়স কত সেটা ঠিক জানি না, তবে বোধহয় বত্রিশ/তেত্রিশ হবে। অনুপম ভাই যার সাথেই দেখা হচ্ছে তাকেই বলছেন আসলাম শিকদার ভাইয়ের এখানে আসার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য কনে দেখা। উনাদের চ্যানেলের লোকাল প্রতিনিধি একজনের কথা বললেন, টেনিস কোর্টে ফ্যামিলি সহ আসলেন সেই রমণী। আসলাম শিকদার ভাই একটু সময় নিয়ে দেখতে গেলেন । পরে জানা গেল, মেয়ের মুখ ভোচকা (!), তাই পছন্দ হয়নি। আমরা এই নিয়ে বেশ মজা করলাম।

সন্ধ্যার পরে গেলাম সপুরা সিল্ক মিলসে। ডাঃ অনুপম আর আসলাম শিকদার ভাই দুজনে মিলে প্রচুর শপিং করলেন। আমার খুব আগ্রহ হলো কিছু একটা কিনবো – আম্মার জন্য, রুমা আপুর জন্য। রুমা আপুর সাথে কথা বলে দাম সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিয়ে নিলাম।

বাপ্রে, প্রথম যে শাড়িটা পছন্দ হল তার দাম  চার হাজার দুশ পঞ্চাশ! তারপরটা সাড়ে তিন, ব্যাস, আমি শাড়ি দেখা বাদ দিয়ে দাম দেখতে লাগলাম। শেষ দামে যেটা পেলাম তার দাম তেরশো পঞ্চাশ- আমি সাথে নিয়ে গিয়েছি মাত্র ছ’শো টাকা। ঘুরে ঘুরে শেষ পর্যন্ত নাগালের মধ্যে একটা আইটেম পাওয়া গেল, দাম দেড়শো টাকা। স্কার্ফ। তাই নিয়ে নিলাম দুটো- একটা আম্মা আর অন্যটা রুমা আপুর জন্য।

মোটেলে ফিরে খুব হৈচৈ শুনলাম, ভাবলাম গেমস রুম। জানা গেল কোন গেমস রুম নেই, বিদেশী খেলোয়াররা নিজেদের মধ্যে মজা  করছে। রুমে ঢোকার আগে সবাই ঘিরে ধরলো, আমার হাতে সপুরা থেকে কেনাকাটা করা সবার জিনিসপত্র। তারা ফিলিপিন্সের, ইংরেজি ভালো পারে না, আমি যখন বললাম এখানে শাড়ি আছে যা মেয়েদের পোশাক। শুনে একজন বলল, নিশ্চয় সেই চায়নিজ মেয়েটার জন্য (আমি অবশ্য বুঝতে পারলাম না কার কথা বলছে) তবে সাথে সাথেই অন্য একজন বলল, তার কথায় পাত্তা না দিতে কারণ সে একটা স্টুপিড। খুব ইচ্ছে করছিল বিদেশীদের সাথে আড্ডা দিতে, সম্ভব হল না আমার ভাষার অনগ্রসরতার কারণে!!

রাতে যে কি ভালো ঘুম হলো না … উমমমমম….আহ্ …

১৩ই ফেব্রুয়ারী, ২০০৯

এবার সকাল সকালই বের হতে হল। নাস্তা শেষে আমরা গেলাম রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। সেখানে সাক্ষাতকার নেয়া হল, সুইমিং পুলে গেলাম, যা এখনো উদ্বোধন হয় নি।

সেখান থেকে গেলাম ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট মাঠে, সেটা খালেদ মাসুদ পাইলটের ক্রিকেট একাডেমি নামেই বেশী পরিচিত। শ্যুটিং শেষে গেলাম সপুরা সিল্ক মিলসে। ভেবেছিলাম গত রাতে নেয়া জিনিসপত্র কিছু ফেরত দেয়া হবে, কিন্তু সেটা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল না। রেশম  পোকার জীবন চক্র নিয়ে বিস্তারিত শ্যুটির করা হল।

পলু পোকার জীবনটা বেশ মজার। দুটো পুরুষ-স্ত্রীর মিলনে স্ত্রী পোকা প্রেগন্যান্ট হয়, আর পুরুষটি মারা যায়। যে ডিম দেয়া হয় সেগুলো থেকে বাচ্চা জন্ম নেয় তিনদিনের মধ্যেই। তাদেরকে যথেষ্ট যত্নের সাথে রাখা হয়, নির্দিষ্ট পরিবেশ, তাপমাত্রায়। ২১ দিনের মধ্যে তারা পূর্ণ বয়ষ্ক হয়, তখন তাদের শরীরে থলথল করে সুতা। এক একটা পোকা লম্বায় আড়াই-তিন ইঞ্চি। সাদা রং, কিন্তু অন্ধ। আমি  হাতে ধরে দেখেছি, বেশ ঠান্ডা শরীর, দেখতে ঘেন্না লাগে।

এই পোকাগুলোকে তারপর জায়গা মত সেট করা হয়। মজার তথ্য হল, তারা এর আগেই দুতিনদিনের জন্য বাথরুম সেরে নেয়। সেট হবার পর তারা সুতো বের করতে থাকে, নিজেকে জড়িয়ে, হলদে রং এর পুটলি তৈরী করে, ভেতরে থাকে নিজে। এই সময়ই সেগুলোকে নিয়ে গরম পানিতে সেদ্ধ করা হয়, এতে ভেতরের পোকাটি মারা যায়, থেকে যায় সুতাটুকু। এক একটি পোকা থেকে পাওয়া যায় ছশো থেকে একহাজার গজ সুতো। সেগুলা যে কি পাতলা তা না দেখলে বোঝা যায় না। তারপর কাপড় তৈরীর বিস্তারিত দেখলাম। সব দেখে চিন্তা জাগল… না জানি মসলিন কেমন ছিল!

দুপুরের পর ফাইনাল খেলা। আমরা মেনস ডাবলস শ্যুট করলাম, চ্যাম্পিয়ন হল ডেভিড ও ম্যাথিউ থম্পসন। এরা দু’ভাই, ইউকে থেকে এসেছে। ডেভিডের খেলা বেশ ভয়ানক, সে আসলেই ভালো খেলে। এবং সে যে আর বাংলাদেশে খেলতে আসবে না সেটা নিশ্চিত হওয়া গেল পরে। সে নেক্সট উইম্বলডন জুনিয়র টেনিসে অংশগ্রহন করতে যাচ্ছে।

মেয়েদের ডাবলস হল তারপর। চ্যাম্পিয়ন হল তাইপে এবং থাইল্যান্ডের দুজনের একটি গ্রুপ। রানার্স আপ হল রুমানিয়ার এবং নেদারল্যান্ডস এর দুজন। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডস এর মেয়েটা অনেক ভালো খেলে, কিন্তু পার্টনারের নার্ভাসনেসের কারনেই হারতে হল। নেদারল্যান্ডের মেয়েটাকে আমার খুব ভালো লেগে গেল এবং সত্যি হল, তার চেহারার ইনোসেন্সি এবং হতাশা দেখে আমার অবস্থা খারাপ। কতটা খারাপ সেটা নিজে বুঝতে পারলাম যখন ঢাকায় ফিরে এক/দুদিন পরেও ফিল করলাম যে তার চেহারা মনে ভাসছে। হায় প্রেম। জানতাম যে সেই সপ্তাহেই ঢাকায় শুরু হচ্ছে আরেকটা টুনার্মেন্ট। অপেক্ষায় থাকলাম করে তাকে দেখতে পারবো।

গিফট হিসেবে একটা শার্ট পাওয়া গেল যার দাম ৭৫০ টাকা। আমি জানি না কি  করবো সেই শার্ট দিয়ে। কিন্তু তাই বলে ফেরত দিলাম না, সাথে নিয়ে আসলাম।

রাজশাহী ভ্রমন শেষ হল সেদিনই। রাত্রে ডিনার শেষ করে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু পরের দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারী, ভালোবাসা দিবস আবার ডাঃ অনুপমের বিবাহবার্ষিকী। সুতরাং সাড়ে সাতটার দিকেই রওয়ানা হলাম।

ক্লিনটন নাকি এক মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি কিনেছিল, এত ভালো সেই মিষ্টি । গাড়ি থামল, ডাঃ অনুপম আর আসলাম শিকদার ভাই কিনল, আমি দোনামোনায় থাকলাম, টাকা নাই, কিনবো নাকি এক কেজি?

অবশেষে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেল বাসার সবার জন্য এক কেজি মিষ্টি কিনে নিলাম, রাজশাহী মিষ্টি ভান্ডার থেকে, এরপর রওয়ানা হলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে।

About দারাশিকো

আমি নাজমুল হাসান দারাশিকো। লেখালিখির প্রতি ভালোবাসা থেকে লিখি। পেশাগত এবং সাংসারিক ব্যস্ততার কারণে অবশ্য এই ভালোবাসা এখন অস্তিত্বের সংকটে, তাই এই ওয়েবসাইটকে বানিয়েছি আমার সিন্দুক। যোগাযোগ - darashiko(at)gmail.com

View all posts by দারাশিকো →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *