বিকাশ ব্যবহার করে প্রতারণা

ফাহমিদা জানাল, অচেনা এক বাংলালিংক ও রবি নাম্বার থেকে কল করে চাকরী পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে পাঁচশ পঞ্চাশ/পঁচাত্তর টাকা বিকাশ করতে বলা হয়েছে। ফাহমিদা সচেতন বলে সে কিছুই করেনি, কিন্তু লাখ লাখ বেকার-অর্ধ বেকার যুবক যুবতীর মধ্যে কতজন এই সামান্য টাকা ব্যায়ে চাকরী প্রাপ্তির লোভনীয় প্রস্তাব উপেক্ষা করতে পারবে? অধিক দরিদ্র মানুষের এই বাংলাদেশে শর্টকাটে ধনী হবার বাসনা পোষনকারী মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় কাছাকাছি। ফলে দেড়লক্ষ টাকার পুরষ্কার পাওয়ার লোভে হাজার দশেক টাকা ধার দেনা করে হলেও বিকাশ করার লোক কম নয় এবং প্রতিনিয়তই এ ঘটনা ঘটছে। প্রশ্ন হল, সকল প্রতারকই বিকাশ নাম্বার ব্যাবহার করছে কেন?

কারণ বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে প্রতারণা করা সবচে নিরাপদ। মোবাইল মানি ট্রান্সফার বাংলাদেশে প্রথম নিয়ে এসেছে বিকাশ এবং এটি Brac ব্যাংকের উদ্যোগ হলেও ব্রান্ডিং হয়েছে আলাদা ভাবে। বাকি প্রায় সকল ব্যাংকই তাদের মোবাইল মানি ট্রান্সফার সার্ভিসকে ব্যাংকের ব্রান্ডেই পরিচিত করেছে, ফলে বিকাশ যত পপুলারিটি পেয়েছে, বাকিগুলো তার কাছেও নেই। বিকাশে একাউন্ট খোলা অত্যন্ত সহজ ও নিরাপদ বলে প্রতারণাও সহজ। বিকাশে একাউন্ট খোলা মানে কিন্তু brac ব্যাংকেই একাউন্ট খোলা। অথচ ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গিয়ে যেভাবে তিন চার পৃষ্ঠার ফরম পূরণ করতে হয়, বিকাশে তা মাত্র এক পৃষ্ঠায়ই সম্ভব। ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে সময় লাগে সাতদিন, বিকাশে তার দরকার নেই। ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে একই ব্যাংকের একজন গ্রাহকের সত্যয়ন লাগে, বিকাশে লাগে না। নমিনীও প্রয়জন হয় না। সারা দেশে ব্যাংকের ব্রাঞ্চ সংখ্যা শ দুয়েক হতে পারে, অথচ বিকাশ এজেন্টের সংখ্যা লাখেরও বেশি, ফলে পরিচয় গোপন করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে একাউন্ট খোলাও সহজতর। বাকি থাকে লেনদেন। বিকাশে টাকা ট্রান্সফার মানে হল বন্দুকের গুলি ছোড়া যা কোনভাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। অথচ এটিএম ছাড়া ব্যাংকের বাকি সব লেনদেনেই বাতিল করার সুযোগ থাকে।

বিকাশে প্রতারণা ঠেকানোর জন্য গ্রাহক পর্যায়ে লোভের সম্বরন বিনা অন্য উপায় নেই, কিন্তু প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কিছু করার আছে। বিকাশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিকারের আশা করা উচিত নয়, কারন তারা প্রতারক-প্রতারিত নির্বিশেষে প্রতি ট্রাঞ্জেকশনেই লাভবান হয়। ভূমিকা রাখতে পারে কেবল সব ব্যাংকের ব্যাংকার বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধুতালিকায় যে সব বাংলাদেশ ব্যাংকার আছেন, এগিয়ে আসবেন কি?

About দারাশিকো

নাজমুল হাসান দারাশিকো। প্রতিষ্ঠাতা ও কোঅর্ডিনেটর, বাংলা মুভি ডেটাবেজ (বিএমডিবি)। যোগাযোগ - [email protected]

View all posts by দারাশিকো →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *