এই আমি দারাশিকো

আমি নাজমুল হাসান দারাশিকো – আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি।

লেখালিখি শুরু করেছি স্কুলে যাওয়ার আগে থেকেই। প্রথমে আকিবুকি, তারপর অক্ষর, তারপর শব্দ এবং বাক্য। মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখালিখির শুরু প্রাইমারীর শেষের দিকে – ক্লাস ফোর অথবা ফাইভ থেকে – পরীক্ষার খাতায়। ক্লাস ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞানের প্রশ্নে রচনা লিখে আসছিলাম। বিজ্ঞান পরীক্ষায় যে রচনা লেখা যাবে না সেইটা বুঝতে আমার ক্লাস নাইন পর্যন্ত সময় লেগেছে।
ক্লাস নাইনে প্রথমবারের মত আমি বিজ্ঞান পরীক্ষায় ৫০ এ মাত্র ২০ পাই – তিন নাম্বারের জন্য ফেল ঠেকানো গিয়েছিল! চওড়া গোঁফের শফিকউল্লাহ স্যার মোটা চশমার উপর দিয়ে তাকিয়ে আমাকে ডেকে বললেন – ‘এদিকে আয়! দেখি কি লিখছস খাতায়।’ তারপর আমার সামনে আমার খাতা কাটলেন। খাতাভর্তি লেখা, কিন্তু নাম্বার পড়ে না, ঘ্যাচ করে কেটে দিচ্ছেন। আমি আল্লাহ আল্লাহ করতেছি। ফেল করলে সমস্যা না, কিন্তু ফেল করার পর স্যারের থাব্রা খাইলে প্যান্ট ঠিক থাকবে কিনা বুঝতেছি না। ক্লাসের আগেই বাথরুম থেকে ঘুরে আসলে ভালো হতো!
আল্লাহ ডাকে সারা দিলেন, ফেল ঠেকায়া দিলেন – ২০। আমি মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বলে তওবা করে ফেললাম – বিজ্ঞান পরীক্ষায় রচনা লেখা বন্দ! বাকী সব পরীক্ষায় রচনা লেখা যাইতে পারে, বিজ্ঞানে না! তওবা খাঁটি ছিল। বিজ্ঞান পরীক্ষায় না জেনে আর কোনদিন কিছু লিখি নাই। নাম্বার বাড়ছে ধাপে ধাপে – এসএসসি পরীক্ষায় লেটার পেলাম। প্রাইমারীর পর এই প্রথম বিজ্ঞান পরীক্ষায় লেটারমার্কস। অভিনন্দন!
গল্প লেখার শুরু হাইস্কুলে থাকতেই – সম্ভবত ক্লাস সিক্সে বা সেভেন পড়ি তখন। স্কুল পেরিয়ে কলেজে উঠার পর গতি বৃদ্ধি পায়। বেশ কিছু গল্প লিখে ফেলেছিলাম তখন। তার মধ্যে একটা বেশ বড় গল্প – এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সেরা লেখা। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পর যে ডায়রীতে গল্পটা লেখা ছিল সেটা ঢাকায় নিয়ে এসেছিলাম – কম্পিউটারে কম্পোজ করবো বলে। কিন্তু তথন বাংলা লিখতে পারতাম না – ফলে কাজ শুরু করা হয় নি। তারপর ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে আমার ডায়রীটা হারিয়ে গেল। ডায়রীর সাথে সাথে হারিয়ে গেল আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো লেখাটি।
এই সাইটটিকে তাই একটি সিন্দুক হিসেবে তৈরী করার চেষ্টা করছি। কত কথাই না লেখা হয় – ব্লগে, ফেসবুকে, কমেন্টের ঘরে। যখন লিখি তখন তো নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়েই লিখি – কিন্তু লেখার পর সেটা হারিয়ে যায় কোথায় তার খবর কে রাখে। এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট লেখাগুলোও যদি এক জায়গায় রাখা যায় তবে মন্দ কি?
দারাশিকো’র এই সিন্দুকে সবার নিমন্ত্রণ।
Shares