নতুন ব্যোমকেশ বক্সী

poster-of-byomkesh-bakshi-with-jishu-sengupt-by-anjan-dutt-film-reviewব্যোমকেশ বক্সী একজনই। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে তৈরী করেছেন তিনি। তাই নতুন ব্যোমকেশ বক্সী সম্ভব নয়। যা সম্ভব তা হল ব্যোমকেশ বক্সীর চেহারা পাল্টে দেয়া। নতুন ব্যোমকেশ বক্সী শিরোনামের কারণও তাই। অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রের অভিনেতা পাল্টেছেন, এসেছেন নতুন ব্যোমকেশ বক্সী, যীশু সেনগুপ্ত। সিনেমার নাম সিরিজের প্রথম সিনেমার নামেই – ব্যোমকেশ বক্সী!

সিনেমার কাহিনী ধানবাদ-এ। কয়লাখনিকে কেন্দ্র করে এসেছে টাকাওয়ালা মানুষ, আর সাথে এসেছে নানারকম অন্যায় অপরাধ। এক কয়লাখনির মালিকের আমন্ত্রনে ব্যোমকেশ ও তার সহকারী উপস্থিত সেখানে। ধানবাদ আর কয়লাখনির কথা বললে অবশ্য ব্যোমকেশের তুলনায় অনুরাগ কাশ্যপের ছবি গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ছবির কথা মনে পড়বে। এই ছবির তুলনায় ওই ছবিতে ধানবাদ, কয়লাখনি আর অপরাধ অনেক বেশি স্পষ্ট। অবশ্য ব্যোমকেশ বক্সী ছবিতে উপস্থিত না হওয়ার কারণ সিনেমার গল্প। গল্পের গোড়ায় কয়লাখনিতে সৃষ্ট গোলযোগের কথা জানিয়ে দর্শক এবং ব্যোমকেশকে ধানবাদে নিয়ে যাওয়া হলেও গল্পের ভেতরে কয়লাখনির সমস্যা গৌণ। আরোপিত বললে বোধহয় আরও সঠিক হয়। সিনেমার রহস্য কয়লাখনিতে নয়, নিমন্ত্রনদাতা কয়লাখনির মালিকের পুত্রবধূর আহবানে সাড়া দিয়ে হত্যারহস্যের মধ্যে, ব্যোমকেশ যার সত্য অন্বেষন করে।

কয়লাখনির মালিকের আমন্ত্রনে ব্যোমকেশ-অজিত ছদ্মবেশে ধানবাদে পৌছালেও পরিচয় ফাঁস হতে সময় লাগে নি। মালিকের পুত্রবধু তার স্বর্ণের বালার বিনিময়ে ব্যোমকেশের সহায়তা জানতে চান তার স্বামী ঠিক কতটা খারাপ কাজের সাথে জড়িয়েছে। তদন্তে ব্যোমকেশ জানতে পারেন কিছুদিন আগেই ঘটে যাওয়া এক খুনের চার সন্দেহভাজনের মধ্যে একজন ফণিষ বা কয়লামালিকের ছেলে। বাকীরাও কয়লাখনিকে কেন্দ্র করে ধনী হওয়াদের সন্তান বা ভাই। ব্যোমকেশের পরিচয় পাওয়ার পর চার বন্ধুর ভিন্ন ভিন্ন জবানবন্দীতে খুন এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য ঘটনা উদ্ধার করা সম্ভবপর হয়।

বাঙ্গালী পাঠকের কাছে ব্যোমকেশ বক্সী গোয়েন্দা। কিন্তু লেখক শরদিন্দু কিংবা অজিতের বয়ানে ব্যোমকেশ গোয়েন্দা নন, সত্যান্বেষী, অর্থ্যাৎ যিনি সত্য অন্বেষন করেন। পরিচালক অঞ্জন দত্ত তার পরিচালনায় নির্মিত চার সিনেমাতে সেভাবেই ব্যোমকেশকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। ফলে পাঠক গোয়েন্দা হিসেবে বক্সীকে গ্রহণ করে তৃপ্ত থাকতে পারলেও সিনেমায় গোয়েন্দা হিসেবে গ্রহণ করলে ঠকতে হবে। অন্তত: এই ব্যোমকেশ বক্সী দেখার পর তাই মনে হল। আবির চ্যাটার্জী অভিনীত ব্যোমকেশের সাথে এই নতুন ব্যোমকেশের পার্থক্য এখানেই। ব্যোমকেশ আবিরকে সত্যান্বেষীর তুলনায় গোয়েন্দা বলেই বেশি মনে হয়েছে, যীশু সেনগুপ্তকে তার বিপরীত। কিন্তু এর ক্রেডিট যীশু সেনগুপ্তকে দেয়া অন্যায় হবে, মূল গল্প ‘কহেন কবি কালিদাস’ এজন্য বাহবা পাওয়ার যোগ্য।

byomkesh-bokshi-jishu-sengupt-shashwata-directed-by-anjan-dutt

নতুন ব্যোমকেশ বক্সী হিসেবে যীশু সেনগুপ্তকে ঠিক পসন্দ করা গেল না

নতুন ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে যীশু সেনগুপ্ত কেমন? আমার পছন্দ হয় নি। অন্তত: আবিরকে এই চরিত্রে দেখার পর যীশুকে মেনে নেয়া কষ্টকর। অজিত চরিত্রে শ্বাশ্বত পারফেক্ট। খবরে পড়লাম আবির চলে যাওয়ার পর ব্যোমকেশ নির্মানের সম্ভাবনাও চলে যাচ্ছিল, কিন্তু শ্বাশ্বতের কারণে অঞ্জন নতুন বক্সীকে বেছে নিয়ে ছবি নির্মান করেছেন। আবির অঞ্জনকে ছেড়ে গেলেও ব্যোমকেশকে বোধহয় ছাড়েন নি, অরিন্দম শীলের পরিচালনায় নির্মিত ব্যোমকেশ পর্ব ছবিতে আবিরই ব্যোমকেশ। ব্যাপারটা অরিন্দমের কাজকে সহজ করে দিয়েছে। অঞ্জন নতুন বক্সীকে বেছে নিয়ে ছবি নির্মান করেছেন বটে, কিন্তু পুরো ছবিতে যে পরিচালক অঞ্জন দত্তকে খুঁজেছি তাকে পাইনি। খোলসা করে বললে, বঙ কানেকশন, চলো লেটস গো, ম্যাডলি বাঙালি কিংবা রঞ্জনা আমি আর আসবো না ছবিতে যে অঞ্জন দত্তকে পাওয়া যায়, এখানে সেটা পাই নি। এই ব্যোমকেশ বক্সী অঞ্জন দত্ত পরিচালনা না করে অন্য কেউ করেছে বললে আমি একটুও অবিশ্বাস করবো না। যাহোক, অঞ্জন দত্তের ব্যোমকেশ বক্সী আবার ফিরবেন চিড়িয়াখানা ছবির মাধ্যমে, সেখানেও থাকবেন যীশু সেনগুপ্ত। এই নতুন ব্যোমকেশ ওই নতুন সিনেমা দেখা না দেখাকে যথেষ্ট প্রভাবিত করবে নিশ্চিত।

ইউটিউভে ভালো কোয়ালিটির প্রিন্টে দেখতে পারেন, লিংক এখানে: https://www.youtube.com/watch?v=bjsv0xsTk3Q


দারাশিকো

নাজমুল হাসান দারাশিকো। চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখক ও ব্লগার। কোঅর্ডিনেটর, বাংলা মুভি ডেটাবেজ (বিএমডিবি) যোগাযোগ - darashiko@gmail.com

You may also like...

ফেসবুক মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares