খোজ-দ্য সার্চ: একটি পজেটিভ রিভিউ

খোজ দ্য সার্চ সিনেমার কথা উঠলেই সিনেমার দর্শকরা হাসেন। হা হা হা হি হি হি হো হো হো …। খোজ দ্য সার্চ কমেডি সিনেমা নয়, পুরোদস্তুর অ্যাকশন সিনেমা। তাই হাসির পেছনে সিনেমার হাস্যরস নয় বরং এর প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্যভাবই প্রকট হয়ে উঠে। কেউ কেউ এধরনের সিনেমা যেনো নির্মান না হয় সে বিষয়ে আশাবাদও ব্যক্ত করেন। যারা হাসেন তাদের সবাই যে সিনেমাটা দেখেছেন তা নয়, অনেকে হাসেন কারণ না হাসলে অন্যরা তাকে নিয়ে হাসতে পারে। আমি হাসি না – খোজ দ্য সার্চ সিনেমাটা আমাকে হাসায় নি, অবিভূত করেছে।

সম্ভবত ২০০৮ সালে প্রথম এই সিনেমার কথা শোনা যায় – বিশেষত শাহবাগে একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয় যেখানে এই সিনেমার বিশেষ কিছু দৃশ্য এবং বেশ কিছু তথ্য সহকারে – তার মধ্যে বিদেশী অভিনেতা-অভিনেত্রীর কথা গুরুত্বের সার্থে বর্ননা করা হয়েছিল। নায়ক চরিত্রে যে মানুষটি তাকে চেনা যায় নি, তার নাম শোনা যায় নি – এমনকি সিনেমার কোন চরিত্রকেও নয়। সেক্ষেত্রে এই সিনেমা সত্যিই কোন কমার্শিয়াল সিনেমা, নাকি ডিজিটাল কোন সিনেমা যা টিভিতে কিংবা সিডি-ডিভিডিতে প্রকাশিত হবে সেটা নিয়ে সন্দেহ ছিল।

পরবর্তীতে অবশ্য ব্লগ এবং পত্রিকাগুলোর কল্যানে এ নিয়ে একটু জানার সুযোগ হয় – ইউটিউবে এই সিনেমার কিছু গান/ট্রেলার পাওয়া যায় এবং সত্যি কথা ট্রেলার দেখে এই সিনেমা সম্পর্কে সিনেমাহলে না যাওয়া দর্শকের মধ্যে বিশেষত: যুবসমাজের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়, এবং সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পরে অনেকেই সিনেমা দেখতে হলগুলোতে যায় – বন্ধুবান্ধব সহ। সিনেমাটা অনেক দর্শককে হতাশ করেছে সত্যি কিন্তু এই সিনেমাটা যে বাংলাদেশী সিনেমার বাজারে বিশাল এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে সে বিষয়টা হয়তো উড়িয়ে দেবার নয়।

খোজ দ্য সার্চ সংক্রান্ত বেশ অনেকগুলো রিভিউ পড়ে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে – এই সকল রিভিউ সতস্ফূর্তভাবে লেখা – রাগ-ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটানোর সময় কেউ তাদেরকে বাধাগ্রস্থ করেনি। এটা ভালো – একটা সিনেমার সাফল্য ব্যর্থতা অনেকক্ষেত্রেই দর্শকদের স্বতস্ফূর্ত মতামতের উপর নির্ভর করে। এটা সত্যি যে দর্শকের আকাঙ্খা এবং প্রাপ্তির মধ্যে পার্থক্য থাকলেই হতাশার তৈরী হবে। কিন্তু এই আশা করার জায়গা থেকে আমরা কি খুব বেশী আশা করেছি? ভেবে দেখা দরকার।

খোজ – দ্যা সার্চ সিনেমার গ্রহনযোগ্যতা অনেক দর্শকের কাছে প্রচন্ড কমেডি – সিনেমার নাম শোনা মাত্র হাসিতে ফেটে পড়েন কেউ কেউ। কিন্তু সত্যিই এই সিনেমাতে হাসার মতো এত উপাদান আছে কিনা সেটা বিশ্লেষনযোগ্য। সিনেমার জেনার হিসেবে খোজ-দ্য সার্চ অবশ্যই কমেডি সিনেমা নয়, বরং পুরোদস্তুর অ্যাকশন সিনেমা। এই সিনেমায় এমন অনেকগুলো বিষয় আছে যা বাংলাদেশী সিনেমায় প্রথম বললে অত্যুক্তি করা হবে না। একটু পেছন ঘুরে দেখা যাক।

বিদেশে কোন একটা অপারেশনে কর্মরত মেজর মাহমুদকে বাংলাদেশ সিক্রেট সার্ভিসের প্রধান জরুরী ভিত্তিতে ডেকে পাঠান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসায়ে জড়িত একটি গ্রুপকে ধ্বংস করার জন্য। সাথে সহযোগিতা করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয় ক্যাপ্টেন ববিকে। দেশে ফিরে একটি দলকে ধাওয়া করার সময় মেজর মাহমুদ আক্রান্ত হন এবং শত্রুশিবির তার মগজ ধোলাই করে তাকে নিজেদের দলে ভিড়িয়ে নেয়, নতুন নাম দেয়া হয় অনন্ত। যদিও পূর্ব স্মৃতির কিছু কিছু মেজর মাহমুদের চোখে ভেসে উঠে কিন্তু তা যথেষ্ট নয় – শত্রদলের প্রথম মিশনে মেজর মাহমুদ ব্যর্থ হয়, নাবালিকা একটি শিশুকে হত্যায় অপারগতা প্রকাশে। শত্রুদল তাকে হত্যা প্রচেষ্টা চালায়, এবং মেজর মাহমুদ নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে। নদী থেকে কুড়িয়ে পাবার তিনমাস পড়ে জ্ঞান ফেরার পরে ঘটনাচক্রে মেজর মাহমুদের সাথে দেশীয় গডফাদার এর কন্যার সাথে পরিচয় এবং তাকে রক্ষা করতে গিয়ে একে একে শত্রুদলের সবার পরিচয় উদ্ধার, নিজের পূর্ব ইতিহাস ফিরে পাওয়া এবং শত্রুদলের দমন – এই হলো সিনেমার কাহিনী।

মোটাদাগে কাহিনী হিসেবে এর অভিনবত্ব নেই হলিউড সিনেমায় অভ্যস্ত দর্শকদের কাছে, যদিও এধরনের কাহিনী এদেশে খুব বেশী নেই। সিনেমার কাহিনীর চেয়ে দুর্বলতা ফুটে উঠেছে এর সংলাপে, গল্প বলার গতিতে। কাহিনীতে অনাবশ্যক গতি এবং স্থিরতা- উভয়ই বিদ্যমান। এই গতি এবং স্থিরতার পেছনে হয়তো প্রযোজক অনন্তই দায়ী। সংলাপের দিক থেকে গতানুগতিক বাংলা সিনেমার সাথে এর তফাৎ অনেক। সিনেমায় ইংরেজি ডায়লগের পরিমান নিতান্ত কম নয় – এর অনেকটা সিনেমার প্রয়োজনে, অনেকটা বাড়াবাড়ি। ঘাটতি আছে সিনেমার লোকেশন বাছাইয়েও। দেশীয় অংশের লোকেশন খুব বিবেচনা করে বাছাই করা হয়নি বরং হাতের নাগালেই পাওয়া যায় এমন কোন অংশে কাজ করার সম্ভাবনা বেশী বলে মনে হয়েছে।

পরিচালক-চিত্রগ্রাহক-সম্পাদকের স্থানে ইফতেখার চৌধুরীর নাম রয়েছে। এই সিনেমার চিত্রগ্রহন এবং সম্পাদনায় কোয়ালিটির পার্থক্য এত বেশী যে সন্দেহ জাগে। যদি সত্যিই ইফতেখার চৌধুরী এর চিত্রগ্রহন এবং সম্পাদনার দায়িত্বে থাকেন তবে বলতে হবে এই ভদ্রলোক প্রতিভাবান। কিছু কিছু অংশে বিশেষত: বিদেশী দৃশ্যায়ন এবং সম্পাদনা মোটেও সাধারণ নয় এবং এর গুনগত মান দারুন। বাংলাদেশী সিনেমায় সম্পাদনার ক্ষেত্রে এই গতি নতুন। তাছাড়া, প্রযোজক-নায়ক অনন্ত এই সিনেমায় যে সকল আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন তার অনেকগুলো বাস্তবসম্মত – উদ্ভট ডিজাইনের নয়। সম্ভবত এই প্রথম বাংলাদেশী সিনেমায় উজি সাবমেশিনগান টাইপের অস্ত্রের ব্যবহার দেখানো হয়েছে। ভিন্নতা আছে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে – প্রত্যেকটা অ্যাকশন দৃশ্য বেশ পরিশ্রমের সাথে নেয়া হয়েছে – খেয়াল করলেই বোঝা যায়। গোলাগুলির দৃশ্যের পুরোটাই সম্পাদনার টেবিলে করা হয়েছে সে স্পষ্ট – এটা আগ্রহ সৃষ্টিকারী। গতানুগতিক বাংলা সিনেমার মতো পিস্তল থেকে কামানের মতো ধোয়া বের হয়নি বরং হলিউডি সিনেমার আমেজ সামান্য হলেও পাওয়া যায়। এর বাইরে যে কারণে এই সিনেমার প্রশংসা করা যায় তা হলো এর সাউন্ড ট্র্যাক। আমি জানি না, এই সাউন্ডট্র্যাক অরিজিনাল কিনা – যদি হয় তবে এর জন্য বাহবা দিতেই হয়। বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়, প্রযোজক অনন্ত সিনেমার নির্মানে বলিউডকে নয়, হলিউডকে অনুসরন করার চেষ্টা করেছেন।জনকন্ঠের একটা রিপোর্ট কপি-পেস্ট করছি –

যেসব প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে হলিউড বলিউডের ছবি বিশ্ববাজার দখলে রেখেছে, সেসব প্রযুক্তির সংস্পর্শেই নির্মিত হয়েছে ‘খোঁজ-দ্য সার্চ।’ বাংলাদেশের কোন ছবির বেলায় এমন ঘটনা এটিই প্রথম। এর সাউন্ড সিস্টেম, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং এ্যাকশন ইফেক্ট অন্য বাংলা চলচ্চিত্রগুলোর থেকে আলাদা। ছবিটি এইচডিভি ক্যানন এ-১ ক্যামেরায় ২৪ এফপিএসে ধারণ করা। পটভূমির গভীরতা ধারণের জন্য ক্যামেরাতে ৩৫ মি.মি. এসএলআর এ্যাডাপ্টর এবং নাইকোন ল্যান্স যোগ করা হয়েছে। শূ্যটিং ক্যামেরায় ধারণের পর মূল এইচডিভি ফাইলকে ৪-কে সিনেফর্ম ফাইলে রূপানত্মর করে এডব সিএস-৪-এর মাধ্যমে মাস্টারিং করা হয়। আর সাউন্ড ইফেক্টের ক্ষেত্রে অডিশন ৩.০ ব্যবহার করা হয়েছে। ভিজু্যয়াল ইফেক্টের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে আপ্টার ইফেক্টস, সিনেমা ৪-ডি এবং ইমাজিনার সিস্টেম মকি-মনেট-মচা। এছাড়াও এ্যাকশন লাইব্রেরী থেকে অন্য ইফেক্টসমূহ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ছবির কলার কারেকশনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্বের আধুনিকতম প্রযুক্তি। কাহিনীর প্রয়োজনে ছবিতে হেলিকপ্টার, স্পীডবোট, হর্স রাইড, মোটরবাইকসহ নানা ধরনের বাহন ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এ ছবির শূ্যটিং হয়েছে আমেরিকা ও নেপালে।

এই সিনেমার সবচে বড় দুর্বলতা অভিনয়ে। নায়ক নায়িকা সম্পূর্ন নতুন এবং তাদের অভিনয় যোগ্যতা পরিমাপযোগ্য নয়। তাদের কাচা অভিনয়, সংলাপ উপস্থাপনে অনভিজ্ঞতা-অপরিপক্কতা সিনেমা দর্শককে বিরক্ত করবে স্বাভাবিক। সম্ভবত এর প্রধান কারণ হলো প্রযোজক অনন্ত। আমি জানি না এই সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর কে ছিলেন – বোধকরি অনন্ত। তিনি চেহারার দিকে যতটা মনযোগ দিয়েছেন তার সিকিভাগও যদি অভিনয় যোগ্যতার দিকে দিতেন তবে সেটা অনেক সাফল্য বয়ে আনতো। অবশ্য অনন্তের পক্ষে সাফাই গাওয়া যায় এভাবে – এ ধরনের সিনেমা নির্মানে প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রযোজক অনন্ত যে পরিমান ব্যয় করেছেন তার পাশাপাশি ভালো অভিনেতার ব্যয় বহন করা সহজ ছিল না। কারণ সিনেমা নির্মান পদ্ধতিই বলে দেয় – অনেক সময় নিয়ে সিনেমার শ্যুটিং পর্ব চলেছে। বাংলাদেশের ভালো অভিনেতারা যেরকম শিডিউল স্বল্পতায় ভোগেন, তাতে তাদের দিয়ে কাজ করাটা কঠিন ছিল। তাছাড়া, প্রধান চরিত্রে রূপদানকারী অনন্ত নিজেই খুব কাচা অদক্ষ অভিনেতা। হয়তো সিনেমার প্রযোজক বলেই তিনি এই সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

আশার দিকে অনেক। প্রযোজক অনন্ত এই সিনেমায় বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন একটি ধারা তৈরী করার চেষ্টা করেছেন। সামাজিক-অ্যাকশন সিনেমার ধারা থেকে বেরিয়ে শুধু অ্যাকশন সিনেমার এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে পরবর্তীতে কমেডি, ড্রামা, হরর ইত্যাদি সিনেমার পথ খুলে দেবে। টেকনিক্যাল বিষয়গুলো প্রযোজক অনন্ত’র কাছেই আছে – প্রয়োজন হলো তাকে ভালো সংলাপসমৃদ্ধ কাহিনী সরবরাহ করা এবং অনন্তকে রাজী করানো যে তিনি প্রযোজক হিসেবেই বেশী সফল হবেন, নায়ক হিসেবে নন। সিনেমার ব্যর্খতাগুলো স্বাভাবিকভাবে নেয়া যায় – এতদিনে সিনেমার যে ধারা তৈরী হয়েছে সেখান থেকে বেরিয়ে হঠাৎই হলিউড পর্যায়ের সিনেমা নির্মান সম্ভব নয়, এ আকাশ কুসুম স্বপ্ন এবং আশা করাও উচিত নয়। কিন্তু এ ধরনের সিনেমা নিয়ে হাস্যরস করা পরোক্ষভাবে এই ইন্ডাস্ট্রিরই প্রসারে এবং উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ করবে – যে আগ্রহ এবং আশা নিয়ে সিনেমার দর্শকরা সিনেমা হলে গিয়েছিলেন তা পূরন তখনই হবে যখন এ ধরনের সিনেমা আরও নির্মান হবে, ধীরে ধীরে উন্নতি হবে, নির্মান বন্ধ হয়ে গেলে অ্যাকশন ধর্মী সিনেমা দেখে হাসার সুযোগটাও হারাতে হবে – দেশীয় সিনেমা বিশ্বজয় করবে সেই স্বপ্ন দেখার সাধ্যটিও হারিয়ে যেতে বাধ্য থাকবে তখন।


দারাশিকো

নাজমুল হাসান দারাশিকো। চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখক ও ব্লগার। কোঅর্ডিনেটর, বাংলা মুভি ডেটাবেজ (বিএমডিবি) যোগাযোগ - [email protected]

You may also like...

ফেসবুক মন্তব্য

27 Responses

  1. sumon says:

    boss ami apnar jotogulo lekha porsi sobchaite ai lekhata amar valo lagse…amader deser cinema premider akta culture ee hoye gase desi commercial cinemate nak sitkano….ai chobita ami dekhini tobe trailor dekhsi amar akhono iccha chobita dekhbo…anonto hoyto namta notun tobe tini je poriman ortho cinemay dalchen nisondehe prosongsa joggo…sunlam samneo akta big budjet er chobi korchen….tobe amader aktai request thakbe onontor proti tini jate aktu buddhi diye kaj gulo koren……asole amader tendency hoye gache du charta hollywood ee cinemar nam bolte parlei khub boddha cinema dorshok howa jai ai typer……akta nayok er kotha boli…sakib khan…..ai lokta kintu sotti bolte akhon one and only bangladeser superstar….bortoman desi cinema bazar jototukui ase tar sompurno krititto ai loktar…tobe..ata to ossikar korar upay nai oicinema gulo world class hocche na…ai sakib khanre diyei kintu hollywood bollywooder cheyeo kapano chobi banan jaibo kintu tare keu proper use korte partesena aitai afsos……jakl onek kotha koiya fellam mind koiren na….valo likhsen

    • সবার সাথে যেনো আলোচনা করা যায় সেজন্যই তো এই প্লাটফর্ম, মাইন্ড করবো কেনো।
      আপনার কথার সাথে দ্বিমত করছি না, তবে এভাবে গণহারে সবার সম্পর্কে নেগেটিভ বলবেন না প্লিজ। যারা নিছক বিনোদনের জন্য সিনেমা দেখে – ইন্ডাস্ট্রির কথা বিবেচনায় থাকে না তারা এই সিনেমা দেখে হাসতেই পারে – এজন্য দোষ নিয়েন না, মাফ করে দেয়াই উচিত – হাজার হলেও তারাও সিনেমার দর্শক, তাদেরকে হারানো যাবে না।
      শাকিব খানকে দিয়ে ভালো সিনেমা বানানো সম্ভব এটা আমিও বিশ্বাস করি – প্রয়োজন সে মানের গল্প আর পরিচালক। হয়তো উঠে আসবে এরকম কেউ – আমি আশাবাদী।
      ধন্যবাদ সুমন, থাকবেন দারাশিকো ব্লগের সাথেই 🙂

  2. কাউসার রুশো says:

    হুম..ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে লেখা এবং অবশ্যই পজিটিভ।
    কারিগরী দিক থেকে ছবিটা বেশ ভালো একটা বিপ্লব এনছে বলে মনে করি।
    কিন্তু অপরিপক্ক ও দৃষ্টিকটু অভিনয় সবার হাসির খোরাক জুগিয়েছে। আমারও..
    ছবির গানগুলোর চিত্রায়ন বেশ ভালো লেগেছ (বাংলা সিনেমায় নতুনত্ব আছে এই সেন্সে)।
    বিশেষ করে আমার কাছে আইটেম গানটা কিন্তু যথেস্ট ভালো লেগেছে। গান-নাচ-চিত্রায়ন সবই।
    আপনার কী মতামত?

  3. মুসা says:

    ভাইরে, আপ্নের লেখা পইড়া একটু সিম্প্যাথি জাগছে।
    তবে সিনেমার কথা মনে করলেই খালি এম এ জলিল অনন্তের সংলাপ মনে পরে। মজা লাগে।
    আর আপ্নি যে কইছেন, অনন্তরে শুধুমাত্র প্রযোজক হিসবে রাজি করাইতে পারলে সিনেমার লাভ হইবে- সেইটা একখান খাটি কথা।
    আবাহনী মাঠের কোনায় বিলবোর্ডে ‘হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ’ আর ‘মোস্ট ওয়ান্ডেড’ নামে আরো দুইটা সিনেমার পোস্টারে অনন্তরে নায়ক আকারে দেখা গেছে।

    • হুম, অনন্ত আরও বেশ কিছু সিনেমায় আসবে, এ বিষয়ে তাকে রোখা যাবে না। কয়েকটা সিনেমা বের হলেই তাকে বিশ্বাস করানো যাবে সে প্রযোজক হিসেবেই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে স্মরনীয় হয়ে থাকতে পারবে।
      খোজ দ্য সার্চে আপনি হয়তো শুধু সংলাপ আর অভিনয় দেখেছেন, আমি এর বাইরে দেখেছি সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, লোকেশন, সাউন্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই হয়তো এতটা মন্দ লাগে নি।
      আবার আসবেন 🙂

  4. বিবাহিত ব্যাচেলর says:

    এই মুভিটি নিয়ে গত মাসেই আমি একটা কমেন্ট করেছিলাম।হলিউডি দর্শকদের কাছে এই মুভি কমেডি হতেই পারে।কিন্তু লোকটা সিনেমাতে যথেষ্ট পরিমানে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছে। আর শাবনুর পপি মৌসুমিদের ছেড়ে বাংলার দর্শক ও আনকোড়া ফ্রেশ মুখ দেখেছে।এবং পছন্দ ও করেছে।ব্লগে আরেকজন এই ব্যাপারে পজিটিভ পোষ্ট দিয়েছিল মনে হচ্ছে। দেশে বন্ধুদের জিজ্ঞেস করলাম মুভির ব্যাপারে।তারা প্রত্যেকেই ভাল বলেছে। আমার কাছে বেচারা’র অভিনয় ছাড়া মুভি খারাপ লাগেনাই।সে যেভাবে পয়সা খরচ করতেছে তাতে কিছুটা আশাবাদি আমি।শাকিব খান যেই হারে অশ্লিল ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে জীবিত রাখছে জলিল অনন্তের তা করা লাগবেনা বোধ করি।আর সোহানুর রহমান সোহান,গাজী মাজহারুল আনোয়ার দের হাতে পড়লে তার অভিনয়ের সমস্যা কিছুটা কাটবে বলে আমার বিশ্বাস।আর আমি সবসময় ই বিশ্বাস করি আমাদের হাতে প্রতিভাবান পরিচালক যথেষ্ট আছে।তাদের শুধু কাজে লাগানোর পালা।কমেডি একশন সব মুভি ই আমাদের হতে পারে তাদের দ্বারা।অশ্লিলতা থেকে মুক্ত আমরা একসময় নকল থেকেও মুক্ত হব। আর সিনেমা নিয়ে যেহেতু আছেন আশা করি এরকম কমার্শিয়াল বাংলা মুভি’র ব্যাপারে সহমত হবেন।

    কপিরাইট সিনেমা কি বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেছে?সাউথ মুভির নকল না করে রিমেক স্বত্ত নিয়ে ছবি বানাতে আমাদের পরিচালকদের সমস্যা কোথায়?এই ব্যাপারটা আলোচনা করবেন কি?

    • দারাশিকো’র ব্লগে স্বাগতম ভাইয়া।
      অনন্ত ভালো অভিনয় করে না সেটা সত্যি – কিন্তু একজন ভালো পরিচালক তার কাছ থেকে অভিনয় বের করে আনতে পারবেন এবং তার উপযোগী চরিত্র খুজে বের করতে পারবেন সে আশা রাখি। সোহানুর রহমান সোহান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার – দুজনেই তার দুটো সিনেমার পরিচালক – এখনো মুক্তি পায়নি সিনেমাগুলো – দেখা যাক, কতটা উন্নতি হয় তার।

      রিমেক স্বত্ব নিয়ে আসলে খুব বেশী বলার নেই, যে কারণে সিনেমায় অশ্লীলতার জোয়ার শুরু হয়েছিল ঠিক একই কারণে রিমেক স্বত্ব কিনে নেয়ার ব্যাপারটা বন্ধ হয়ে গেছে। স্বত্ব কিনে আনতে যে পরিমান টাকা খরচ হয় তার অর্ধেক টাকাতে সেন্সরবোর্ড সহ অন্যান্য জায়গায় মুখ বন্ধ রাখা যায়। ডিটেইল বলতে পারবো না – দেখি কিছু জানা যায় কিনা।
      অনেক ধন্যবাদ, আবার আসবেন।

      • ইসতিয়াক says:

        দারাশিকো ভাইয়া বেয়াদবি মাফ নিবেন।আমার মনে হয় যে জলিল অনন্ত সাহেব কে সোহানুর রহমান সোহান কেন স্পিলবারগ,ফোরড কপোলা,কুব্রিক এর মতো ডিরেক্টর দের এক্লগে গিলাইয়া দেওা হইলেও অন্তত এই জন্মে উনি অভিনয় করতে পারবেন না।

        • প্রিয় ইসতিয়াক, বেয়াদবী হিসেবে গন্য হলেই তো মাফ করার প্রশ্ন। দারাশিকো এমন কেউ নয় যে তার সব কথায় একমত হতে হবে। তবে কিনা – আমি এম এ জলিল অনন্ত ভাইয়ের একটাই সিনেমা দেখেছি, অন্য কোথাও অভিনয় দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে, পরিচালক ইফতেখার চৌধুরীর একটি অ্যাকশন নাটক দেখার সুযোগ হয়েছে কিছুদিন আগে। দেখার পর সিদ্ধান্তে এসেছি যে পরিচালক অ্যাকশন সিনেমা বানানোর কারিগরী দিক থেকে বেশ প্রজ্ঞাসম্পন্ন হলেও অ্যাক্টরদের কাছ থেকে অভিনয় বের করার যোগ্যতাসম্পন্ন নন, অন্তত সমান পর্যায়ে নন। কাচা অভিনয় সেই নাটকেও ছিল – এবং সেখানে অনন্ত ছিল না। তাছাড়া, একটি সিনেমা দেখেই কারও অভিনয় ক্ষমতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসার মতো যথেষ্ট দক্ষতা আমার এখনো তৈরী হয়নি সেজন্য আমিই দু:খিত।
          অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলতে হয় – পরিচালকদের কাজই হলো সবার কাছ থেকে কাজ বের করে আনা, সেক্ষেত্রে যদি কপোলা-কুব্রিকের নাম নেয়া হয়, তবে পরোক্ষভাবে হয়তো তাদের যোগ্যতাকেই খাটো করা হয় 🙂

  5. রিভিউটা আসতে একটু বেশি লেইট হয়ে গেল 🙂 যাই হোক, এই রিভিউ হয়তো দেরীতেই লেখার মতো রিভিউ। বলা যায় রিভিউ’র রিভিউ।

    আর বাংলা সিনেমা দেখার মতো ধৈর্য্য হারাইতেছি। তবে জোর করে দেখার চেষ্টা করবো এখন থেকে।
    সিনেমায় সুদিন ফিরে আসুক, এই আশাতেই আছি।

  6. ইসতিয়াক says:

    সিনেমা টা আমাকে ব্যাপক হাসিয়েছে।টাকার কুমির অনন্ত জলিল সাহেব মারাত্তক রসিক মানুষ। অ্যাকশনের নামে দরশকদের কমেডি দেখিয়ে একেবারে নতুন এক ধারার সৃষ্টি করলেন।এই মুভির স্যিকুয়েল এর প্রত্তাশায় বসে আসি।
    দারাশিকো ভাই এর লেখার বেশ বড় ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই মুভিটার প্রতি কোনো শ্রধধা না দেখাতে পেরে আমি দুঃখ বোধ করছি। আপনার এই পোস্ট টা পড়ার পর মুভি টা দেখলে হয়তো মন্তব্য ভিন্ন হতো।

  7. Dip says:

    আমার দেওয়া ,মুভি পোষ্টগুলো নিয়ে আমিও বানালাম একটা ব্লগ। আপনারটার মত এত সুন্দর না। তারপরও সারারাত জেগে থেকে অনেক গুগল করে বানালাম। কেন যেন মন মত হচ্ছে না। যাই হোক এমন ভাবেই রেখে দেই সময় পেলেই আবার ঠিকঠাক করবো।
    তাছাড়া এটা ফ্রি সাইট। তাই চাইলেও সব কিছু মনের মত হচ্ছেনা। কি আর করা যা আছে তাই দিয়েই চালিয়ে দিব।

    একবার ঘুরে আসবেন প্লিয…

    cineghor.blogspot.com

  8. warfai says:

    আমার কাছে তেমন খারাপ লাগে নাই…

  9. সিনেমাটা যদিও আমি দেখিনি, তবে এর কয়েকটি মিউজিক ভিডিও ও ট্রেলার দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে ।। যতটুকু দেখেছি আর যেটুকু শুনেছি ও পড়েছি, তাতে নেতিবাচক কথা বেশি শুনলেও, আমি এব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করিনা ।

    অভিনেতা-প্রযোজক অনন্ত এবং তার পুরো টিমটাই ছিল প্রায় নতুন । সুতরাং, ভুল হতেই পারে , হবেই । তবে ঢালাওভাবে তাদের দোষ দেওয়া ঠিক হবেনা । যে পরিস্থিতিতে ও যেভাবে তারা একটি নতুন ধারা আনার চেষ্টা করেছেন, তা প্রশংসার দাবীদার । তাছাড়া, অভিনয় কুশলতা ও সংলাপ বাদে সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, লোকেশন, সাউন্ড ইত্যাদি (যতটুকু ওই গানগুলো থেকে পেয়েছি ও অন্যদের কাছ থেকে জেনেছি) এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সত্যিই বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক । এতো সীমাবদ্ধতার ভেতরে যখন এরকম একটি ‘মোটামুটি ভালো’ সিনেমা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও ভালো সিনেমা হবে , প্রযুক্তি নির্ভর সিনেমা হবে, এরকম আশা আমরা করতে পারি । আর শুধুমাত্র এ কারণেই, আমাদের আশাবাদী হতে সহায়তা করার জন্য, এ সিনেমার প্রযোজক-কলাকুশলীরা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য ।

    ধন্যবাদ, এরকম একটি পজিটিভ রিভিও-এর জন্য …

  10. সম্পূর্ণরূপে সহমত!

  11. মাসুদ পারভেজ says:

    আপনার লেখা পড়ে ছবিটাকে অতো খারাপ আর মনে হচ্ছে না !!
    ভাবছি ছবিটা দেখবো !!!
    এতদিন কোথায় ছিলেন ????

    • ছবিটা যে খুব ভালো হয়েছে তা না, কিন্তু পজেটিভ অনেক কিছুই আছে। এজন্যই এই লেখা।
      এতদিন ঢাকায়ই ছিলাম। কি ব্যাপার বলুন তো? ফেসবুকে একটু ঝামেলায় ছিলাম – কমেন্টিঙ ব্লকড ছিলাম। তাই চুপচাপ থাকতে হইছে তিন দিন – এই তো 🙂

  12. স্বর্ণমৃগ says:

    আমাদের বাংলাদেশী সিনেমা নিয়ে পজিটিভ রিভিউ তো দুরের কথা রিভিউ ও তেমন পাওয়া যায়না। পজিটিভ দিকগুলি নিয়ে লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ দারাশিকো ভাই!
    সত্যি বলতে কি, সিনেমাটা নিয়ে ফানি এবং নেগেটিভ রিভিউ এর কারনেই মুভিটা দেখা হয়নি।
    তবে আমাদের সিনেমাকে এগিয়ে নিতে হবে আমাদেরকেই।
    সমস্যা হল, সিনেমার পজিটিভ এবং নেগেটিভ দিকে গুলো নিয়ে আমরাই শুধু আলোচনা করছি, এটা আমাদের ব্লগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এগুলো সম্পর্কে পরিচালক বা প্রযোজক কেউই জানতে পারছেনা।
    আফসোস! এগুলো যদি কোনমতে মুভির পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে পৌছে দেওয়া যেত! কোন ওয়ে যদি থাকতো!

    • যৌক্তিক কথা বলেছেন স্বর্নমৃগ। পরিচালকদের কাছে পৌছে দেয়া গেলে সত্যিই বেশ হত। কিন্তু সবাই তো আর লালটিপ সিনেমার পরিচালক স্বপন সাহেবের মত ফেসবুকে থাকেন না – সুতরাং উপায় কি?

      বাংলাদেশী সিনেমার রিভিউ লিখার চিন্তা ভাবনা চলছে, দেখা যাক পারা যায় কিনা – দোয়া রাইখেন 🙂

  13. Josepha Elizabeth says:

    ashole bepar ta ki janen bhaiya??? amra sadharon dorshok ra, jara cinema dekhi,
    tara kintu technical bepar gulo sombondhe kono idea rakhi na. ekta muvi dekhte bosle,
    seta valo laglo, naki kharap laglo, ta bichar kori hoyto, golpo, ovinoy, dialogue mota
    muti egulo diyei, location, sound track, editing, cinematography, picturization egula
    amra janio na, bujhio na. tai amar mone hoy muvi ta dekhle amio hashtam. tobe
    review pore shotti dekhar agroho hosse. asha kori appreciate korte parbo. kono link
    ki pawa jabe bhaiya??

  14. hemel says:

    Ai move te koto taka invest kora hoiselo…?

  1. April 13, 2013

    […] এম এ জলিল অনন্ত অভিনীত প্রথম ছবি ‘খোঁজ – দ্য সার্চ‘। এর আগে তিনি এক পর্বের নাটক, […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares